শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভেরি বাধ ভাঙ্গার আতঙ্ক, এখনো ঘুমাতে পারে না উপকূলের মানুষ ফকিরহাটে নতুন কুঁড়ি স্পোটর্স প্রতিযোগিতার উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ১৪ বছরের স্কুলছাত্রীর বিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ যশোরে দুই মাদক ও অস্ত্র মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবনসহ ১৭ বছরের কারাদণ্ড যশোরে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শরণখোলায় কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার ডুমুরিয়ায় দুর্বৃত্তের দেয়া বিষে ৫ লক্ষ টাকার মাছ নিধন খুলনাকে আবারও শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উজিরপুরে ব্যাপক আয়োজনে নতুন কুঁড়ি শুভ উদ্বোধন

সাতক্ষীরা ‌হাঁস পালনে সফল ইসলাম আলী

  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৬ পড়েছেন

বিশেষ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাসেমপুর গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম আলী। এলাকার সবাই তাকে ‘হাঁস ইসলাম’ বলে চেনেন। তিন লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে ৩০০টি হাঁস পালন শুরু করেন। চার বছরের ব্যবধানে তার এখন মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। বাড়িয়েছেন খামারের পরিধিও। এখন দেড় হাজার বেলজিয়াম হাঁস রয়েছে তার খামারে।
ইসলাম আলী এই প্রতিবেদককে ‌বলেন, ২০০০ সালে কিশোরগঞ্জ থেকে ৩০০টি ‘ক্যাম্পবেল’ জাতের হাঁসের বাচ্চা এনে খামার শুরু করি। ২০১৯ সালে নতুন জাতের বেলজিয়াম হাঁস নিয়ে আসি। বর্তমানে ১২০০টি বাচ্চা হাঁস রয়েছে। ৩০০টি বড় হাঁস প্রতিদিন গড়ে ২৯৬টি করে ডিম দিচ্ছে। ডিমের দাম ২০ টাকা পিস। প্রতিদিন ডিম বিক্রি করেই পাঁচ হাজার ৯২০ টাকা আয় হয়। এর মধ্যে খরচ রয়েছে দুই হাজার টাকা। এটি ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়। প্রতি চালানে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা লাভ হয়। লাভের টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি প্রতি বছর হাঁসের সংখ্যা বাড়াতে থাকি।
‘বর্তমানে হাঁসগুলো ডিম দিচ্ছে। ডিম ফুটিয়ে বাচ্চাও বিক্রি করছি। পাশাপাশি হাঁসগুলোর মাংস বেশ সুস্বাদু। বছরে নয় থেকে ১০ লাখ টাকা আয় হচ্ছে। গত মে মাস থেকে মাংসের পাশাপাশি বাচ্চাও উৎপাদন হচ্ছে। প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। প্রতি সপ্তাহে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছে।’
‘বাচ্চা উৎপাদনে বছরে ৪০ লাখ টাকা খরচ হলেও বিক্রি হবে কমপক্ষে ৮০ থেকে ৮৫ লাখ টাকা। খামারে তেমন কোনো বিপর্যয় দেখা না দিলে বছরে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা লাভ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ২৪ বছর ধরে শ্রম আর ধৈর্যের সঙ্গে হাঁসের খামার করছি। ব্যয় বাদ দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চলছে। হাঁস পালন করে এখন আমি সফল ও স্বাবলম্বী।
খামারে হাঁসগুলোর পরিচর্যা করছিলেন রহিমা খাতুন। তিনি এই প্রতিবেদককে ‌বলেন, হাঁসগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। খাওয়াতে হয় ফিড ও পানি। সকাল ৭টার দিকে হাঁসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশে পুকুর রয়েছে। সেখানেই সারাদিন কাটায় তারা।
কাসেমপুর গ্রামের বাসিন্দা রহিমা বেগম এই প্রতিবেদক ‌বলেন, হাঁসগুলো খুব সুন্দর দেখতে। আমাদের বাড়ির পাশেই খামারটি। অনেকে এখান থেকে হাঁস কিনে নিয়ে যান। অনেকে আসেন দেখার জন্য। বেশ ভালো ব্যবসা করছেন ইসলাম আলী।
তালতলা গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, হাঁসগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু। চার মাসের মধ্যে বাচ্চা দেয়। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এখানে হাঁস কিনতে আসেন।
সাতক্ষীরা জেলার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, বেলজিয়াম হাঁস মাংস উৎপাদনের জন্য উপযোগী। এখানকার খামারিরা মাংস ও ডিম উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন। এ জাতের হাঁস দ্রুত বর্ধনশীল। একেকটির ওজন হয় চার থেকে পাঁচ কেজি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ হাঁসের চাহিদাও রয়েছে বেশ।
‘এ অঞ্চলে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক হাঁসের খামার রয়েছে। এর মধ্যে বেলজিয়াম হাঁসের খামার রয়েছে ৩০-৩৫টি। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে যে কেউ এ ধরনের খামার গড়ে তুলে সচ্ছল হতে পারেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে খামারিদের ডাক প্লেগ ভ্যাকসিনসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT