
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে ১৪ বছরের এক কিশোরী। অথচ তার বিয়ের আয়োজন চলছিল বাড়িতে। বিয়ের দিনও ঠিক হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হয়েছে সেই আয়োজন। ভবিষ্যতে মেয়ের অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ের উদ্যোগ নেবেন না—এমন অঙ্গীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন তার অভিভাবকেরা।
ঘটনাটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের চৌবাড়ীয়া গ্রামের।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ওই ছাত্রীর বিয়ের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজের নির্দেশনায় বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রশাসন। সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয় করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে উদ্যোগ নেন সাকিবুর রহমান বাবলা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষাকর্মী আফসার সুলতানা ও বাশিয়ার রহমান, সিডব্লিউসিএসের লিয়াজো কর্মকর্তা রুহুল আমিন, পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসান এবং বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক।
তাঁরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে মেয়েটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
অভিভাবকদের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও এর শাস্তির বিধান সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি অল্প বয়সে বিয়ের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন।
মেয়েটির পড়াশোনা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের বিষয়েও তাঁদের সচেতন করা হয়। এ সময় কিশোরীকে প্রাথমিক মনোসামাজিক কাউন্সেলিং দেওয়া হয়।
জানা গেছে, দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের শশাডাঙ্গা গ্রামের আসাদুল ইসলাম সরদারের ছেলে সুমন হোসেন শামীমের সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। শামীম একটি মাদ্রাসার আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বোঝানোর পর মেয়েটির অভিভাবকেরা বিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে সম্মত হন। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ নেবেন না বলে তাঁরা মুচলেকা দেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ওই শিশুর বাড়িতে গিয়ে বিয়েটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা অনেকটা দুরূহ ব্যাপার।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে তালা উপজেলার দুটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।
Leave a Reply