
কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়নে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, দর্শকদের উল্লাস আর টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে চারদলীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট। পাঁচ গ্রামের যুবসমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) দুপুর ২টায় সিএমবি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। খেলা দেখতে মাঠে ভিড় করেন বিভিন্ন গ্রামের বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক।
টুর্নামেন্টে স্থানীয় চারটি ফুটবল দল অংশগ্রহণ করে। প্রথম খেলায় বৌলতল ফুটবল একাদশের মুখোমুখি হয় চর কুলিয়া ফুটবল একাদশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলায় ২-০ গোলে জয়লাভ করে চর কুলিয়া ফুটবল একাদশ।
দ্বিতীয় খেলায় সিএমবিএম ফুটবল একাদশের প্রতিপক্ষ ছিল সারুলিয়া ফুটবল একাদশ। দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় সিএমবিএম ফুটবল একাদশ।
এরপর বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হয় সিএমবিএম ফুটবল একাদশ ও চর কুলিয়া ফুটবল একাদশ। দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে টানটান উত্তেজনা। নির্ধারিত সময়ে খেলা শেষ হলেও জয়-পরাজয় নির্ধারিত না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপের লড়াইয়ে ৪-১ গোলে চর কুলিয়া ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে সিএমবিএম ফুটবল একাদশ।
খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হোসেন আলী। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়ানুরাগী, বিভিন্ন গ্রামের যুবসমাজ ও বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেন।
খেলা পরিচালনায় রেফারির দায়িত্ব পালন করেন শাহরিয়ার স্বাধীন, জুয়েল মাহমুদ ও তমাল ঘোষ। খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। চ্যাম্পিয়ন দলকে ২১ ইঞ্চি এবং রানার্সআপ দলকে ১৯ ইঞ্চি মনিটর পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়।
পাঁচ গ্রামের যুবসমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং স্থানীয় তরুণদের মধ্যে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার পাশাপাশি গ্রামীণ ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত থাকলে তরুণ প্রজন্ম মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থেকে খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা খেলাধুলার ঐতিহ্যও নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।
Leave a Reply