শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ভেরি বাধ ভাঙ্গার আতঙ্ক, এখনো ঘুমাতে পারে না উপকূলের মানুষ ফকিরহাটে নতুন কুঁড়ি স্পোটর্স প্রতিযোগিতার উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ১৪ বছরের স্কুলছাত্রীর বিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ যশোরে দুই মাদক ও অস্ত্র মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবনসহ ১৭ বছরের কারাদণ্ড যশোরে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শরণখোলায় কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার তালায় খাঁচায় আটকে গুরুতর আহত বনবিড়ালের বাচ্চা উদ্ধার ডুমুরিয়ায় দুর্বৃত্তের দেয়া বিষে ৫ লক্ষ টাকার মাছ নিধন খুলনাকে আবারও শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উজিরপুরে ব্যাপক আয়োজনে নতুন কুঁড়ি শুভ উদ্বোধন

তালার কৃষকদের জৈব সারের উপর ভরসা

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮১ পড়েছেন

ডেস্ক রিপোর্ট : পরিবেশ ও মাটির উর্বরতা রক্ষায় তালার কৃষকেরা এখন জৈব সারকে নতুন ভরসা হিসেবে গ্রহণ করছেন। এতে করে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরশীলতা। শিবপুর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মোড়ল আব্দুল মালেক এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মাত্র ১৮টি কেঁচো দিয়ে তিনি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। এক দশকের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা তাঁর খামারে বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১৫ টন ভার্মি ও ট্রাইকো কম্পোস্ট সার উৎপাদিত হচ্ছে। এই সার তালা ছাড়িয়ে খুলনা, যশোর ও ঢাকায়ও সরবরাহ হচ্ছে। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৫ শতাধিক কৃষককে নিয়ে জৈব সার প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলায় প্রায় ৫০ হাজার কৃষক নিয়মিতভাবে জৈব সার উৎপাদন করছেন। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে, যা অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তালার শিবপুর গ্রামের মোড়ল আব্দুল মালেক বলেন, “শুরুর দিকে মানুষ হাসাহাসি করতো কেঁচো দিয়ে কৃষি হবে কি! এখন তারা সরাসরি এসে সার কিনছে। আমার খামারে দুই ধরনের সার উৎপাদিত হয় ভার্মি ও ট্রাইকো কম্পোস্ট। আড়াই বিঘা জমিতে খামার পরিচালনা হয়, যেখানে নিয়মিত আট-দশজন শ্রমিক কাজ করেন।” তিনি আরও জানান, ট্রাইকো কম্পোস্ট মাটির জৈব উপাদান পুনরুদ্ধার করে, ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংস করে এবং উপকারী পোকামাকড় বাঁচিয়ে রাখে। এতে উৎপাদন খরচ কমে, ফলন বৃদ্ধি পায় এবং পরিবেশও সুরক্ষিত থাকে। তালা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে উপজেলায় ১২০টির বেশি ক্ষুদ্র জৈব সার খামার চালু রয়েছে। এসব খামারের পণ্য স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। অনেক কৃষক জৈব সার উৎপাদনকে পেশা হিসেবেও গ্রহণ করছেন। মোড়ল আব্দুল মালেকের মেয়ে শাহিনুর ইয়াসমিন শিলা বলেন, “নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারই ভবিষ্যতের পথ। সরকার যদি জৈব সার সহজলভ্য করে, তাহলে কৃষক যেমন উপকৃত হবেন, দেশও পাবে বিষমুক্ত খাদ্য।”স্থানীয় কৃষক মুকুল সরদার বলেন, “আগে রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে মাটির শক্তি নষ্ট হতো। এখন কেঁচো সার ব্যবহার করে ফলন ভালো হচ্ছে, মাটিও উর্বর হচ্ছে। ধান, সবজি, কলাসহ সব ফসলেই এটি কার্যকর।”তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন বলেন, “ভার্মি ও ট্রাইকো কম্পোস্ট শুধু সার নয়, এটি পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি। মাটির জীববৈচিত্র্য রক্ষা, শিকড় বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমরা প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। জৈব সার ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব, যা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে টেকসই সমাধান।” কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়লে বাংলাদেশ দ্রুত একটি জৈব কৃষি নির্ভর দেশ হিসেবে এগিয়ে যেতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT