
নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনাকে আবারও দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট থেকে খুলনায় আসার পথে রূপসার তিলক এলাকায় আয়োজিত পথসভা এবং খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন ২-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা কিবলেন।
খুলনা অঞ্চলের অতীত ঐতিহ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় খুলনা ছিল দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল। এখানে বড় বড় কলকারখানা থাকলেও নানা কারণে সেগুলোর অনেকগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার খুলনা থেকে শুরু করে উত্তরের জেলা পঞ্চগড় পর্যন্ত বিস্তৃত নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে চায়।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের নেওয়া প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো: খুলনা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত শিল্পকারখানার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ। খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা হয়ে উত্তরাঞ্চলের শেষপ্রান্ত পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে স্থানীয় যুবসমাজ নিজ এলাকাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশিত বিমানবন্দর, চার লেনের সড়ক, রেল যোগাযোগ ও বন্দরের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করা হয়নি। গত এক যুগে ভোটাধিকার হরণ, সম্পদ লুটপাট এবং শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
পরে বিকেল ৩টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠন এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ও উদীয়মান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও মেধাভিত্তিক জাতি গঠন সম্ভব। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের তরুণ ক্রীড়াবিদরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুবর্ণ সুযোগ পাবে।
এর আগে বাগেরহাটে হজরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার সময় খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আরেকটি পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়া সংগঠক ও বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply