শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য যে শর্ত দিল ইরান

  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪ পড়েছেন

ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে ইরান। তবে ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের বার্তা, ‘যুদ্ধ’ ও ‘যুদ্ধবিরতি’ একই সঙ্গে চলতে পারে না। যেকোনও একটা বেছে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত এই প্রণালি হাজার হাজার বছর ধরে খোলা ছিল। এটি কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেখানে নিরাপদ চলাচল ইরান ও ওমানের ‘সদিচ্ছার’ ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্র ‘বাস্তবে এই আগ্রাসন থেকে সরে না এলে’ প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মূলত, লেবাননে ইসরায়েলের হামলার কথাই ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সাংবাদিক নিক রবিনসন জানতে চান, নিরাপদ চলাচল বলতে কি বোঝানো হচ্ছে যে ইরান কি প্রণালি দিয়ে যাওয়া প্রতিটি জাহাজ থেকে ফি আদায় করবে না, কিংবা জাহাজ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেবে না? জবাবে ইরানের মন্ত্রী বলেন, ইরান চায় প্রণালিটি ‘শান্তিপূর্ণ’ থাকুক।

তিনি আরও যোগ করেন, ইরান আন্তর্জাতিক রীতি ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে। নিরাপদ চলাচল একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়, এবং উপসাগরকে যেন যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে ‘অপব্যবহার’ করা না হয়—তা ইরান মেনে নেবে না।

এর আগে গতকাল বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে ইরান।

ইরানের অভিযোগ, যে ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে তিন দফা লঙ্ঘিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর‌ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এ ছাড়া ইরানে ড্রোন হামলার‌ও অভিযোগ তুলেছে তারা। পাশাপাশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়েও শর্তখেলাপ হয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের।

ইরান ফের হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার কারণে বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট। হয় যুদ্ধবিরতি, নয়তো ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা। দু’টি একসঙ্গে চলতে পারে না। লেবাননের গণহত্যা সমস্ত বিশ্ব দেখছে।’

তেহরানের স্পষ্ট বার্তা, ‘এখন আমেরিকার কোর্টে বল। তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তার অপেক্ষায় বিশ্ব।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী আমেরিকা। তার দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করছে তাদের কাছ থেকে ইরান অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT