বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর, ইতিহাস গড়লেন আল-সাইয়েদ

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ০ পড়েছেন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সবচেয়ে বেশি আলোচিত মিশিগানের সিনেটর নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথম মুসলিম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে ইতিহাস গড়লেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল আল-সাইয়েদ।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রগতিশীলদের প্রিয় মুখ আব্দুল আল-সাইয়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুইং স্টেট (যেখানে কোনো নির্দিষ্ট দলের আধিপত্য নেই)-এ অর্জিত এই জয় ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী অংশের জন্য একটি বড় সাফল্য।

মিশরের অভিবাসী দম্পতির সন্তান আল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হতে যাচ্ছেন। জনস্বাস্থ্যের সাবেক এই কর্মকর্তা, যিনি আগে কখনো কোনো নির্বাচিত পদে দায়িত্ব পালন করেননি, আট বছর আগে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক দলীয় গভর্নর পদপ্রার্থী বাছাইয়ের নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নিজের আসন নিশ্চিত করলেন।

আল-সাইয়েদ ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি এবং সাধারণ নির্বাচন—উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিপক্ষের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে জয়ী হয়েছেন।

তার এই জয় এসেছে তৃণমূল পর্যায়ের প্রচারণার মাধ্যমে, যার মূল ভিত্তি ছিল সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বাইরের অর্থের প্রভাব দূর করা এবং ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা।

আল-সাইয়েদের এই জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সংশ্লিষ্ট আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি প্রমাণ করে যে, যারা এই প্রগতিশীল এজেন্ডাকে গ্রহণ করে, তারা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্যগুলোতেও জয়লাভ করতে সক্ষম।

রিপাবলিকানরা রজার্সের জন্য পথ সুগম করে দিয়েছিল। রজার্স একজন সাবেক কংগ্রেসম্যান, যিনি দুই বছর আগে সিনেট নির্বাচনে তৎকালীন প্রতিনিধি এলিসা স্লটকিন-এর কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও প্রেসিডেন্টের শুল্কনীতির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ রয়েছে—এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে রজার্স বেশ হিমশিম খেয়েছেন।

আব্দুল এল সায়েদের সিনেট নির্বাচনের এই ঐতিহাসিক জয়যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। সায়েফ ডেমোক্র্যাটসদের নিজস্ব নির্বাচনে জয় পেয়ে আজকের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবে এই লড়াইয়ে তিনি শুরু থেকেই ব্যাপক বাধার মুখে পড়েছেন। সর্বশেষ তার নিজ দলের পার্লামেন্টেরিয়ান হ্যালি স্টিভেনস তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে।

হেলি ডেমোক্র্যাটসদের প্রাইমারি নির্বাচনে আল-সাইয়েদের কাছে হেরেছেন। ফলে তিনি সিনেটর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি।

সাধারণত নিজ দলের প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর কথা থাকলেও তিনি বিরোধী দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। তাতেও অবশ্য বিচলিত হননি সায়েদ। উজ্জীবিতভাবেই চালিয়ে গিয়েছিলেন শেষ মুহূর্তের প্রচারণা

শুরু থেকে তার ধর্ম পরিচয়কে টার্গেট করেও বিভিন্ন বিদ্রুপ মন্তব্য করতে থাকে বিপক্ষ শিবির। খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তার বিরুদ্ধে কটাক্ষে ছিলেন সরব। তাকে জঙ্গি ও জিহাদি তকমা দেওয়া হয়।

মিশিগানের অপর্যাপ্ত  স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্যা নিয়ে সরব সায়েদের জনপ্রিয়তা তাতেও খুব একটা কমেনি। প্রচারণাকালে তিনি বারবার বলেছিলেন, মুসলিম সিনেটর হতে তিনি দাঁড়াননি, মিশিগানের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দাঁড়িয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মার্কিন কংগ্রেসের দুই অংশ—প্রতিনিধি পরিষদ আর সিনেট। সিনেট যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার উঁচু কক্ষ। দেশের ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে দুজন করে মোট ১০০ জন সিনেটর। মেয়াদকাল হয় ছয় বছর। প্রতি দুই বছর পর এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোট হয়, যাতে পুরো কক্ষ একসঙ্গে খালি না হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT