বিশেষ প্রতিনিধি প্রতিনিধি: উজিরপুরের সাতলায় কাওসার হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় পরিবারের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে স্বামীকে হারিয়ে চার সন্তান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্ত্রী শাগরি বেগম।
উল্যেখ্যঃ গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কাওসার হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। পরদিন ২৪ অক্টোবর শনিবার বাদ এশা তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত কাওসার হাওলাদার স্ত্রী শাগরি বেগম, তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার করতেন। তাঁর বড় মেয়ে হাফসানার বয়স ১৪ বছর, মেজো মেয়ে নুসরাতের বয়স ৮ বছর, ছোট মেয়ে তায়েবার বয়স ৫ বছর এবং একমাত্র ছেলে আবু হুরায়রার বয়স মাত্র ৩ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন দিশেহারা পুরো পরিবার।
মামলার বাদী ও নিহত কাওসারের মেজো ভাই মোস্তফা হাওলাদারের অভিযোগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোস্তফা হাওলাদার বলেন, আমার নিরীহ ভাইটি চারটি অবুঝ সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাত। কি অপরাধে কাওসারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো? তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চারটি সন্তান ও স্ত্রীসহ পাঁচটি জীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
এখন কীভাবে তাদের সংসার চালাব? কীভাবে তাদের লেখাপড়ার খরচ বহন করব? আমার একার পক্ষে কতটুকু সম্ভব, আপনারাই বলুন?
তিনি আরও বলেন হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এতে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহ সরকারি দলের নেতৃবৃন্দের সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন। আমাদের এই অসহায় পরিবারের পাশে সবাই যেন মানবিকভাবে দাঁড়ান। বিশেষ করে আমার ভাইয়ের চারটি অবুঝ সন্তানের ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকারে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা চাই। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
Leave a Reply