শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খেলাধুলার মধ্য দিয়ে যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দুরে রাখতে পারে : বাগেরহাট জেলা প্রশাসক বাগেরহাটে মূলহোতাসহ ৪ ডাকাত গ্রেফতার: টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধার মরিশাসে কন্টেইনার দুর্ঘটনায় ৩ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে হতদরিদ্র, দুস্থ ও পথশিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ইসলামের নামে রাজনীতি করছে, অথচ ইশতেহারে ইসলাম নেই: স্বরাষ্ট্ৰমন্ত্রী জাতীয় চার নেতা ও জয় বাংলার নামে থাকা কোস্টগার্ডের ৫ জাহাজের নাম বদল পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে খাল পরিষ্কারের কাজ করলেন উজিরপুরের ইউএনও নড়াইলে নারী নৌকা বাইচ, সাংস্কৃতিক উৎসব  ও ফ্রি হেলথ ক্যাম্প  উদ্বোধন সাতক্ষীরায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট

সাতক্ষীরায় সুপারির বাণিজ্যিক চাষ : গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২১২ পড়েছেন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: পান-সুপারির সঙ্গে পরিচিত নন এমন মানুষ পাওয়া বিরল। হাজার বছরের ঐতিহ্যের অংশ এই সুপারি একসময় কেবল পান খাওয়ার পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এখন এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতিতেই কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবার অনেক শিল্পের সঙ্গেও কৃষির সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়ে থাকে, যার মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলেই রয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি।
একসময় বসতবাড়ির আঙিনায় পারিবারিক প্রয়োজনেই কয়েকটি সুপারি গাছ লাগানো হতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সময়ের পরিবর্তনে সুপারি হয়ে উঠেছে বাণিজ্যিক ফসল। সাতক্ষীরার তালা, কলারোয়া, পাটকেলঘাটা, ডুমুরিয়া, বিশেষ করে কপোতাক্ষ অববাহিকায় ব্যাপকভাবে সুপারি চাষ হচ্ছে। দেবহাটা ও কালিগঞ্জ উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে উৎপাদন দেখা যাচ্ছে।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতিশতক সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ২০০ এমনকি ৫০০ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে প্রতিটি সুপারি বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৫ টাকা দরে। দাম বাড়ার সাথে সাথে কৃষকরাও পাচ্ছেন ন্যায্য মূল্য। স্থানীয় বাজার ছাড়াও এই সুপারি রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি রপ্তানির বাজারেও সাতক্ষীরার সুপারি জায়গা করে নিচ্ছে।
সুপারি চাষ কৃষকের জন্য লাভজনক হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এর সহজ উৎপাদন পদ্ধতি। সুপারি গাছের চারার দাম বর্তমানে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। রোপণের চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই ফলন আসে। তাছাড়া একই জমিতে অন্যান্য ফসল, রবিশস্য বা সবজি চাষেও কোনো সমস্যা হয় না। ফলে কৃষকরা একই জমি থেকে বহুমুখী আয় করতে পারছেন।
শুধু ফল নয়, সুপারি গাছের কাঠও গ্রামীণ জীবনে কাজে লাগে। বিশেষ করে ঘরের ছাউনি তৈরিতে এর কাণ্ডের ব্যবহার ব্যাপক। এ কারণে সুপারি গাছ গ্রামীণ অর্থনীতিতে দ্বিগুণ গুরুত্ব বহন করে।
তবে সুপারি নিয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ভিন্ন মত রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সুপারি সেবন মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এটি লিভার, কিডনি ও দাঁতের মাড়ির ক্ষতি করতে পারে। তবুও সামাজিক-সাংস্কৃতিক কারণে পান-সুপারির ব্যবহার আজও কমেনি। দাওয়াত, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা অতিথি আপ্যায়নে পান-সুপারি এখনো অপরিহার্য অংশ।
সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে সুপারির অবদান দিন দিন স্পষ্ট হচ্ছে। বাণিজ্যিক চাষ ও বাজার সম্প্রসারণের ফলে অনেক মানুষ এখন এ পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুপারি চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে, যা কৃষকের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT