সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

রামপালে নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৮ পড়েছেন

রামপাল প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের রোমজাইপুর থেকে উড়াবুনিয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে রোমজাইপুরবাসীর উদ্যোগে রোমজাইপুর পূর্বপাড়া ঘোষিয়া খালীর তীরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে ‘এখনই টেকসই বেড়িবাঁধ চাই’, ‘জীবনের বিনিময়ে ফেরি পাচ্ছি, আমাদের চাই টেকসই বাঁধ’, ‘আমাকে বিক্রি করো, কিন্তু বাঁধ দাও’সহ বিভিন্ন লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের কারণে রোমজাইপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, নদীর তীব্র স্রোত ও জাহাজ চলাচলের ঢেউয়ের কারণে ভাঙন আরও বাড়ছে। পাশাপাশি নদী খননের নামে অপরিকল্পিত কাজের কারণেও পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। ভাঙা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

মানববন্ধনে পেড়িখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বয়জিৎ শেখ বলেন, বছরের পর বছর ধরে এলাকাটি নদীভাঙনের কবলে রয়েছে। বহু পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়েছে। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মহিলা ইউপি সদস্য রিনা বেগম হিনা বলেন, প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোমজাইপুরের অস্তিত্ব মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে।

স্থানীয় উদ্যোক্তা ফিরোজ মাঝি বলেন, নদীভাঙনের কারণে মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা সরকারের কাছে দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, শুধু বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলেই হবে না, নদীভাঙনে যারা ঘরবাড়ি, জমি ও সম্পদ হারিয়েছেন, সরকারকে তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে এলাকাটি পুনরায় পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT