মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

কেসিসির সম্পত্তি শাখার সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৯ পড়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক :খুলনা সিটি কর্পোরেশন -রাজস্ব বিভাগের সাধারণ ট্যাক্স আর্থিক, আদায়কারী থেকে রাতারাতি সম্পত্তি শাখার প্রধান (এস্টেট অফিসার) বনে যাওয়া মো. সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিতর্কিত পদায়ন ও কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে পদ দখল এবং ভুয়া শ্রমিক দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় কেসিসি জুড়ে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন নগরবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহল এই নজিরবিহীন জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ১৯৯৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি খুলনা সিটি কর্পোরেশনে সাধারণ ‘ট্যাক্স আদায়কারী’ হিসেবে চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি তিনি সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট অব ট্যাক্স পদে পদোন্নতি পান। তবে কোনো নিয়মনীতি বা জ্যেষ্ঠতার তোয়াক্কা না করে কী প্রক্রিয়ায় তিনি রাজস্ব বিভাগ থেকে সরাসরি সম্পত্তি শাখার শীর্ষ পদ অর্থাৎ ‘এস্টেট অফিসার’ হয়ে গেলেন , তা নিয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে কেসিসির তৎকালীন প্রশাসনের ওপর অনুচিত প্রভাব খাটিয়ে সালাউদ্দিন এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি বাগিয়ে নেন।
শুধু পদ বাগানোই নয়, দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি কেসিসির বিভিন্ন উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত বিলে শতভাগ জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নথিপত্রে ৫০ জন শ্রমিক মাঠে কর্মরত থাকলেও বাস্তবে ১০০ জন শ্রমিকের ভুয়া তালিকা ও ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এস্টেট অফিসার মো. সালাউদ্দিনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তাঁর যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বিষয়ের ওপর লিখিত অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেলে আইন ও বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেসিসির সচেতন কর্মচারীরা জানান, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে এস্টেট অফিসার সালাউদ্দিনের এই রাতারাতি পদোন্নতি এবং ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ লোপাটের বিষয়টি কোনো নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে স্বাধীন তদন্ত হওয়া জরুরি

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT