শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নতুন কুঁড়ির সেরা ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তির আমন্ত্রণপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী খুমেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোস্তফা কামাল প্রধানমন্ত্রীকে নিজ হাতে লেখা কোরআন উপহার দিলেন ৯ বছরের শিশু কৃষিতে সফল উপকূলের নারীরা ভেরি বাধ ভাঙ্গার আতঙ্ক, এখনো ঘুমাতে পারে না উপকূলের মানুষ ফকিরহাটে নতুন কুঁড়ি স্পোটর্স প্রতিযোগিতার উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ১৪ বছরের স্কুলছাত্রীর বিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ যশোরে দুই মাদক ও অস্ত্র মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবনসহ ১৭ বছরের কারাদণ্ড যশোরে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শরণখোলায় কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ইরানে অস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৬ পড়েছেন

ডেস্ক রিপোর্ট : মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন ইরানে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিএনএনকে এমনটা জানিয়েছেন সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত তিনজন ব্যক্তি।
এই পদক্ষেপ উসকানিমূলক হিসেবে দেখা হতে পারে, কারণ বেইজিং দাবি করেছে যে তারা চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ থামাতে যে নাজুক যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী মাসের শুরুতে চীনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
গোয়েন্দা তথ্য আরও ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান এই যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করতে পারে তাদের কিছু অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি অংশীদারদের সহায়তায়।
সূত্রগুলোর মধ্যে দুজন জানিয়েছেন, চীন এসব অস্ত্র তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পাঠানোর চেষ্টা করছে, যাতে প্রকৃত উৎস গোপন রাখা যায়।
এই অস্ত্রগুলো হলো কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাডস), যা পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে নিচ দিয়ে ওড়া মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল। যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে এগুলো আবারও একই হুমকি তৈরি করতে পারে।
ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘চীন কখনোই সংঘাতের কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করেনি; এই তথ্য সত্য নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি দায়িত্বশীল বৃহৎ দেশ হিসেবে চীন তার আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা, অযথা সংযোগ টানা এবং অতিরঞ্জিত প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকেও উত্তেজনা কমাতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’
এর আগে চলতি সপ্তাহে দূতাবাসের আরেক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই চীন যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে কাজ করে যাচ্ছে।
ট্রাম্প সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইঙ্গিত দেন, গত সপ্তাহে ইরানের আকাশে ভূপাতিত হওয়া একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ‘হাতে বহনযোগ্য, তাপ-নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র’ দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। ইরানও দাবি করেছে তারা একটি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, যদিও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে সেটি চীনে তৈরি ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানে ম্যানপ্যাডস সরবরাহ করা হলে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে চীনের সমর্থনের মাত্রা নতুন পর্যায়ে পৌঁছাবে।
সূত্রগুলো বলছে, চীনা কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে ইরানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ‘ডুয়াল-ইউজ’ প্রযুক্তি বিক্রি করে যাচ্ছে, যা অস্ত্র তৈরি ও নেভিগেশন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। তবে চীনা সরকার সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ করলে তা সহায়তার এক নতুন স্তর হিসেবে বিবেচিত হবে।
আগামী মাসে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের কথা রয়েছে এবং হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে, যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছেন, চীন সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে রক্ষা করার কোনো কৌশলগত ফায়দা দেখছে না। কারণ তারা জানে এটি জেতা সম্ভব নয়।
বরং বেইজিং চেষ্টা করছে ইরানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে, যার তেলের ওপর তারা ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। একই সঙ্গে বাইরে থেকে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে, যাতে যুদ্ধ শেষে তারা দায় এড়াতে পারে।
সূত্রগুলো আরও বলছে, চীন যুক্তি দিতে পারে যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আক্রমণাত্মক নয়, বরং প্রতিরক্ষামূলক। এভাবে তারা তাদের সহায়তাকে রাশিয়ার সহায়তা থেকে আলাদা করতে চায়।
সিএনএন আগে জানিয়েছে, রাশিয়া এই যুদ্ধে ইরানকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা ও স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে ইরানকে সাহায্য করেছে।
ইরানের সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে এবং একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তার অধিকাংশ তেল চীনের কাছে বিক্রি করে থাকে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT