বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মোরেলগঞ্জে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সিজন-২ এর শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং তাহসিফের সঙ্গে থাকা সেই তরুণী ফের রিমান্ডে ৫৯ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ‘খুলনার খবর’ নামে ফেসবুক পেজের পরিচয় ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন, প্রশাসনিক তদন্তের দাবি বটিয়াঘাটায় স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার খুলনা-মোংলা ও বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান সুন্দরবনে বনদস্যু আতঙ্ক, নিরাপত্তার দাবিতে কয়রায় মানববন্ধন দুই প্রকল্প উদ্বোধনে মোংলা আসছেন প্রধানমন্ত্রী শরণখোলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উপলক্ষ্যেপ্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মাছ শিকারের দায়ে কথিত যুবদল কর্মীসহ গ্রেফতার ৩

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩১ পড়েছেন

শরণখোলা প্রতিনিধি : সুন্দরবনে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার করার অভিযোগে বন বিভাগের দায়ের করা মামলায় বহুল আলোচিত কথিত যুবদল কর্মী শাহরিয়ার সুমনসহ তার সহযোগী দুই জেলেকে গ্রেফতার করেছে মোংলা থানা পুলিশ। সোমবার (৩১ আগষ্ট) রাত সাড়ে ১০ টায় মোংলা উপজেলার বৈদ্যমারী বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়,গত শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোড়াবুড়বুড়িয়া এলাকায় সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের একটি খাল থেকে বিষ দিয়ে মাছ ধরে ফেরার সময় স্থানীয় গ্রামবাসী প্রায় ২০০ কেজি মাছ ও একটি নৌকাসহ দুই জেলেকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে প্রভাবশালী একটি মহলের হুমকি-ধমকিতে আটক দুই জেলেকে মাছ ও নৌকাসহ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হলে বনবিভাগ সহ আইনশৃংখলা বাহিনী তদন্তে নামে। তদন্তে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ মেলে। বৈদ্যমারী ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ বকুল হোসেন বাদী হয়ে বিষ দিয়ে মাছ ধরার অভিযোগে মোংলা উপজেলার আগলাদিয়া গোরা বুড়বুড়িয়া গ্রামের সেকেন্দার হাওলাদারের পুত্র মহিদুল হাওলাদার (৩৫) দক্ষিণ হলদিবুনিয়া গ্রামের কালাম শেখের পুত্র নাইম শেখ ও গোড়া বাশতলা গ্রামের মোঃ দেলোয়ার হাওলাদারের পুত্র মোঃ সুমন হাওলাদার(৩২) এদের বিরুদ্ধে মোংলা থানায় একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ মামলার তিন আসামীকে গ্রেফতার করে বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করেছে। সুমন গ্রেফতার হওয়ায় এলাকার সাধারন মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের কাছে সুমন নিজেকে যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে জানা গেছে। তবে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সুমনের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার করে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পর শাহরিয়ার সুমন সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের জন্য প্রায় ৫০টি নৌকায় ২০০ জনেরও বেশি জেলেকে সংগঠিত করেন। এসব জেলে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে নিয়মিত বিষ প্রয়োগ করে মাছ আহরণ করতেন বলেও অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিষ প্রয়োগ করে অবৈধভাবে মাছ শিকারের মাধ্যমে সুমন বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এমনকি তার চক্রের কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে আটক হলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নেওয়া হতো। এ সময় বিএনপির নাম ও রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব দেখিয়ে বন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের দাবি, সুমনের সঙ্গে সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের সঙ্গে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে দ্রুত সময়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে শনিবার গ্রামবাসীর হাতে আটক হওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া প্রায় ২০০ কেজি মাছ ও নৌকাটি এখনো পুলিশ বা বন বিভাগের জব্দে আসেনি বলে জানা গেছে। ফলে বিষ প্রয়োগে মাছ শিকারের অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত মাছ ও নৌকাটি উদ্ধার ও জব্দ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্তে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বিষ প্রয়োগ করে মাছ ধরার একটি ভিডিও ফুটেজ তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শাহরিয়ার সুমনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “সুন্দরবনে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের মামলায় শাহরিয়ার সুমনকে আটক করা হয়েছে। তাকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT