বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

আজ ১৫ ই ভাদ্র রাখাল শাহের ওরশ ও মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৫ পড়েছেন

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে হযরত রাখাল শাহের মাজার প্রাঙ্গণে প্রতি বছর ১৫ ভাদ্র অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী রাখাল শাহের মেলা ও ওরশ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য,সাধুসঙ্গ,জিকির-আজগার ও আধ্যাত্মিক সংগীতের পাশাপাশি লোকজ বিনোদনের নানা আয়োজনকে ঘিরে এ মেলা পরিণত হয় এলাকার অন্যতম বড় মিলন
মেলায়। ওরশ উপলক্ষে এবারও দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্ত,অনুসারী ও দর্শনার্থীর সমাগমের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
হযরত রাখাল শাহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মাজার জিয়ারতকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ১৫ ভাদ্র আলীপুর গ্রামের মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের মিলন ঘটে।সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ মেলায় আসতে শুরু করেন। দিন বাড়ার
সঙ্গে সঙ্গে মাজার ও মেলা প্রাঙ্গণে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাধু-ভক্তদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
ওরশের মূল আয়োজনকে ঘিরে মাজার প্রাঙ্গণে ভক্ত ও অনুসারীরা সমবেত হন। জিকির-আজগার,ইবাদত,সাধুসঙ্গ এবং আধ্যাত্মিক গান-বাজনার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়।রাখাল শাহের স্মরণে ভক্তরা মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং
নিজেদের মনোবাসনা পূরণের আশায় প্রার্থনা করেন।
স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরে এ আয়োজন ধর্মীয় অনুভূতি ও লোক ঐতিহ্যের সাথে জড়িয়ে আছে। ওরশকে কেন্দ্র করে শুধু স্থানীয় মানুষই নয়,আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং দূর-দূরান্ত থেকেও ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আলীপুরে ছুটে আসেন। এসময় রাখাল শাহের মেলাকে ঘিরে এলাকায় মেয়ে-জামাই ও আত্মীয়-স্বজনের সরব উপস্থিতি দেখা যায়। রাখাল শাহ দরবার কমিটির সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন,এবারের ওরশে
বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বড় পরিসরে তবারকের আয়োজন।প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জন্য তবারক প্রস্তুত করা হবে।এ জন্য দুটি গরু জবাই করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বিপুলসংখ্যক মানুষের মধ্যে তবারক বিতরণের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রান্না,পরিবেশন ও বিতরণ—সবকিছু সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে স্বেচ্ছাসেবকদেরও দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ওরশ উদযাপন কমিটির অন্যতম সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেন,ওরশ মেলাটি ধর্মীয়
আয়োজনের পাশাপাশি এবারের মেলায় থাকছে লোকজ সংস্কৃতির নানা উপাদান। বিশেষআকর্ষণ হিসেবে ঢাকার নামকরা বাউল শিল্পীদের সমন্বয়ে বাউল সংগীত পরিবেশনের
আয়োজন করা হয়েছে।বাউল শিল্পী মুন্নি সরকার ও তার দলবল এবারের মেলায় আসছেন বলে আমাদেরকে নিশ্চিত করেছেন। বাউল শিল্পীদের পরিবেশনায় আধ্যাত্মিক ওলোকগানের সুরে মুখরিত হবে মেলা প্রাঙ্গণ। বাউল গানের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য থাকছে নাগরদোলা ও মৃত্যুকূপের খেলা। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের কাছে এসব আয়োজন বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
ওরশ ও মেলাকে কেন্দ্র করে আলীপুর গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় ইতোমধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। মেলায় আগত বিপুলসংখ্যক মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনায়
নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন
করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রতি বছর ১৫ ভাদ্র অনুষ্ঠিত এই মেলা স্থানীয় মানুষের কাছে একটি পুরোনো ঐতিহ্য। সময়ের সাথে মেলার পরিসর ও মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লেও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সাধুসঙ্গের মূল আবহটি ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। রাখাল শাহের মেলা ও ওরশকে ঘিরে প্রতি বছরই আলীপুর গ্রামে তৈরি হয় ভিন্ন
এক পরিবেশ। কেউ আসেন মাজার জিয়ারত ও শ্রদ্ধা জানাতে,কেউ আসেন সাধুসঙ্গ ও আধ্যাত্মিক সংগীত শুনতে,আবার কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলার লোকজ আয়োজন উপভোগ করতে।সব মিলিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির এক অনন্য
সমন্বয় ঘটে এ আয়োজনে। তরবার কমিটি ও ওরশ উদযাপন কমিটির সভাপতি মুন্সী আবুল কাশেমের
প্রত্যাশা,সবার সহযোগিতায় এবারও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে রাখালশাহের মেলা ও ওরশ অনুষ্ঠিত হবে। বিপুলসংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থীরউপস্থিতিতে ১৫ ভাদ্র আলীপুর গ্রামের মাজার প্রাঙ্গণ পরিণত হবে ধর্মীয় আবহ
ও লোকজ সংস্কৃতির এক বড় মিলন কেন্দ্রে।আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাবক রয়েছে।অন্যদিকে ওরশ মেলায় মাদক সেবনসহ কোন অসামাজিক কার্যকলাপের সুযোগ
থাকবে না।এব্যাপারে কড়া বার্তা দেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT