রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৩ অপরাহ্ন

রাজাহাট-চুকনগর ৩৮ কিলোমিটার সড়কে স্বস্তি, সংস্কারে ফিরেছে নির্বিঘ্ন চলাচল

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৬ পড়েছেন
যশোর প্রতিনিধি : অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ভারী যানবাহনের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত যশোর-খুলনা মহাসড়কের রাজাহাট থেকে মনিরামপুর ও কেশবপুর হয়ে চুকনগর পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। জরুরি সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় সড়কটি এখন অনেকটাই চলাচলের উপযোগী হয়েছে। ফিরেছে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি, কমেছে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি। এতে যশোর, মনিরামপুর, কেশবপুর ও চুকনগর অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে স্বস্তি ফিরেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি এবং পিচ উঠে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় সড়কে স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে দ্রুত সংস্কারকাজের উদ্যোগ নেয় যশোর সড়ক বিভাগ। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ায় সড়কটি আবারও চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠেছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়,২০২২ সালের শেষ দিকে সড়কটির মূল নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ হয়। এরই মধ্যে ঠিকাদারের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ মেয়াদও পার হয়েছে। তবে মোংলা বন্দর ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ১০ চাকার ট্রাকসহ অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি দেখা দেয়। সড়কের স্থায়িত্ব ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করা হয়েছে।
সড়কে চলাচলকারী মাইক্রোবাসচালক আব্দুল মাজেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত থাকায় যানবাহন চালাতে বেশ ভোগান্তি হতো। এখন রাজাহাট থেকে চুকনগর পর্যন্ত সড়ক অনেক ভালো হয়েছে। যানবাহনও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করছে।
যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাম্মী সুলতানা বলেন, অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অনেক সময় নির্ধারিত মেয়াদের আগেই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়ক বিভাগ সামর্থ্য অনুযায়ী এসব ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করে থাকে। রাজাহাট-চুকনগর সড়কের ক্ষেত্রেও দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই করে ভারী যানবাহন চলাচল করলে সড়কের স্থায়িত্ব কমে যায়। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তদারকি ও অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সড়কটি দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন চালকদের মতে, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। তাই সড়কটি সংস্কারের ফলে শুধু যাতায়াতের ভোগান্তিই কমেনি, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে সড়কের স্থায়িত্ব ধরে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT