
অরুন শীল : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামাপূজা (কালীপূজা) ও দীপাবলি উৎসব আজ রবিবার। কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে সাধারণত শ্যামাপুজা অনুষ্ঠিত হয়। শক্তি ও শান্তির দেবী শ্যামামায়ের আগমনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে পূজার আয়োজন চলছে।
হিন্দু পুরাণ মতে, কালী দেবী দুর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালীপুজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সব অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়। কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে শ্যামা, আদ্যমা, তারামা, চামুন্ডি, ভদ্রকালী,দেবী মহামায়াসহ বিভিন্ন নামে পরিচিত। কালীপূজার দিন হিন্দু সম্প্রদায় সন্ধ্যায় তাদের বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্বালন করে স্বর্গীয় পিতা-মাতা ও আত্মীয়- স্বজনদের স্মরণ করেন। এটিকে বলা হয় দীপাবলি। বাঙালি সংস্কৃতিতে কালীপূজা-দীপাবলির উৎসব গুরুত্বপূর্ণ। আলোর উৎসব দীপাবলিকে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় দীপাবলি বললেও অবাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়গুলো একে দিওয়ালি বলে থাকে।
দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও গৃহে বা মণ্ডপে মৃন্ময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করা হয়। মন্দিরে বা গৃহে প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরমুর্তী বা ধাতু প্রতিমাতেও কালীপুজা করা হয়। মধ্যরাতে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে গৃহস্থ বাড়িতে সাধারণত অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যমতে আদ্যাশক্তি কালীর রূপে কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী-কালী শশ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। এ কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে শশ্মশানে মহাধুমধামের মধ্য দিয়ে শ্মশান কালীপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
পঞ্জিকা মতে, আজ রবিবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে কার্তিক অমাবস্যা তিথি পড়ছে। কালীপুজোর মূল শুভ সময় বা নিশীথ প্রহর হল রাত ১১টা ৩৯ মিনিট থেকে ১২টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত। এ সময়ে কালীপূজার পাশাপাশি অনেকেই লক্ষ্মীপূজাও করবেন। পুজোর জন্য শুভ সময় থাকবে আজ রাত ১১টা ৪৮ মিনিট থেকে রাত ১২টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত। মা কালীর পুজো সারা রাত ধরে চললেও এই এক ঘণ্টা সময়ের মধ্যেই মা কালীর আরাধনার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় থাকবে।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রমনা মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, সবুজবাগ থানাধীন শ্রীশ্রী বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, পুরান ঢাকার রাধাগোবিন্দ জিউ ঠাকুর মন্দির, পোস্তগোলা মহাশ্মশান, তাঁতী বাজার, শাঁখারী বাজার, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন মণ্ডপ ও মন্দিরে শ্যামাপূজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
হিন্দু সমপ্রদায়ের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শ্যামা পূজা ও দীপাবলি উৎসব আজ। উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্যপূর্ণ পরিবেশে আজ বৃহস্পতিবার নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় কালী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।‘দীপাবলি’ বা ‘দিওয়ালি’র অর্থ প্রদীপের সারি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী শ্যামা শান্তি, সংহতি ও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠার প্রতীক। হিন্দু পুরাণ মতে, দেবী শ্যামা দুর্গারই একটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালীপূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সব অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়। দশ মহাবিদ্যার প্রথম মহাবিদ্যা হচ্ছেন শ্যামা। দেবীর আবির্ভাব সম্পর্কে নানা পুরাণ ও তন্ত্রে বহু তথ্য আছে। পুরাণে বলা হয়েছে, দেবাসুরের যুদ্ধে পরাজিত দেবগণের স্তুতিতে আদ্যাশক্তি ভগবতীর দেহকোষ থেকে দেবী কৌষিকী আবির্ভূত হন। এছাড়া দেবী শ্যামার বিভিন্ন রূপের কথা বলা হয়েছে বঙ্গীয় তন্ত্রসার, শ্যামা রহস্য বিবিধ তন্ত্রে। তার রূপের মধ্যে রয়েছে- দক্ষিণ, সিদ্ধ, ভদ্র, শ্মশান, রক্ষা ও মহাকালী। এই দিন সন্ধ্যায় মৃত নিকটজনদের মঙ্গল কামনায় জলে প্রদীপ ভাসান অনেকে। শ্যামা পূজায় সাধারণত পাঁঠা, ভেড়া বা মহিষ বলি দেয়া হয়। সনাতনী হিন্দু ধর্মীয় মতে, ত্রেতা যুগে ১৪ বছর বনবাস থাকার পর নবমীতে শ্রীরাম রাবণ বধের বিজয় আনন্দ নিয়ে দশমীতে অযোধ্যায় ফিরে আসেন। রামের আগমন বার্তা শুনে প্রজাকুল তাদের গৃহে প্রদীপ জ্বালিয়ে আনন্দ উৎসব পালন করেন। এই উৎসবকে দীপাবলি উৎসব বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার বৈষ্ণব শাস্ত্রীয় মতে, কার্তিক মাস তথা দামোদর মাস। এ মাসেই স্বয়ং ভগবান শ্রী কৃষ্ণ তার মাতৃ স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ হন। ভক্তির রশিতে ভগবান ভক্তের হাতে বন্দি। এই দামোদর মাস ভগবানের প্রিয় মাস। এ মাসে ভগবানের উদ্দেশে যা কিছু করা হয় তার অক্ষয় ফল প্রদান করেন ভগবান।
অন্নকূট ও ভাইফোঁটা: আগামী ১০ নভেম্বর অন্নকূট উৎসবের পাশাপাশি ভাইদের দীর্ঘায়ু কামনায় পালিত হবে ভাইফোঁটা বা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া।
Leave a Reply