শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কিশোর গ্যাং: এর অপরাধ নিবে কার কাঁধে? নতুন কুঁড়ির সেরা ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তির আমন্ত্রণপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী খুমেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোস্তফা কামাল প্রধানমন্ত্রীকে নিজ হাতে লেখা কোরআন উপহার দিলেন ৯ বছরের শিশু কৃষিতে সফল উপকূলের নারীরা ভেরি বাধ ভাঙ্গার আতঙ্ক, এখনো ঘুমাতে পারে না উপকূলের মানুষ ফকিরহাটে নতুন কুঁড়ি স্পোটর্স প্রতিযোগিতার উদ্বোধন সাতক্ষীরায় ১৪ বছরের স্কুলছাত্রীর বিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ যশোরে দুই মাদক ও অস্ত্র মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবনসহ ১৭ বছরের কারাদণ্ড যশোরে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ শুরু’, ২৫০ বছর পূর্তিতে ট্রাম্প

  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৫ পড়েছেন

ডেস্ক রিপোর্ট : যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া এক আত্মজয়ী ভাষণে দেশটির ‘অতুলনীয় অর্জন ও অসীম সম্ভাবনার’ কথা তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে তিনি ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগের’ ঘোষণা দিয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (শনিবার, ৪ জুলাই) রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্বাচনি প্রচারণাধর্মী এই ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, তার দেশ ‘সবেমাত্র শুরু করেছে’ এবং একে তিনি ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যাবেন। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় বিপজ্জনক তাপদাহ ও ঝড়ের কারণে উৎসবের জৌলুশ কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। এমনকি ট্রাম্পের ভাষণও ঝড়ের কারণে বিলম্বিত হয়। এছাড়া ওয়াশিংটনের রাস্তায় শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের বলে ধারণা করা একটি মিছিলও আতঙ্ক ছড়ায়।

রাত ১১টা ১৫ মিনিটে অবশেষে মঞ্চে উঠে ট্রাম্প তার পছন্দের বিষয়গুলো নিয়েই কথা বলেন। ‘আমেরিকার নতুন স্বর্ণযুগের’ প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির ভিত্তিহীন অভিযোগও পুনরাবৃত্তি করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকা বিজয়ীদের জাতি। আজ আমাদের দেশ আবার জিতছে।’ আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, ‘বিশ্ব ইতিহাসের সর্ববৃহৎ’ আতশবাজি প্রদর্শনের আগে তিনি এই ভাষণ দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলজুড়ে চলা তীব্র তাপদাহে সপ্তাহান্তের বহুদিনের পরিকল্পিত অনুষ্ঠানসূচিও ভেস্তে গেছে। রাজধানীতে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ হঠাৎ বাতিল করা হয়। এর একদিন আগে ফিলাডেলফিয়ায়ও কুচকাওয়াজ বাতিল হয়। ১৭৭৬ সালে ব্রিটেন থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এই ফিলাডেলফিয়াতেই স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

শনিবার ওয়াশিংটনের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছিল। ডিসি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত জরুরি সেবা বিভাগ তাপজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ৫১ জনকে চিকিৎসা দিয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ জনকে কাছাকাছি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। প্রথম দর্শকরা অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করার পরপরই আবহাওয়া পরিবর্তন শুরু হয় এবং বজ্রঝড়ের আশঙ্কায় তাদের প্রায় দুই ঘণ্টার জন্য সরিয়ে নেয়া হয়। পরে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেন, ‘ঝড় যেকোনো উপলক্ষের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে।’ তবে হাজারো মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হয়ে যান। পরে মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ভোর ৪টায় একজন দর্শকের সামনে হলেও তিনি ভাষণ দিতেন।

মঞ্চে তিনি সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সাবেক সদস্য এবং ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস টু’ চন্দ্র অভিযানের ক্রুদের পরিচয় করিয়ে দেন। যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘আশা, প্রতিশ্রুতি, আলো ও গৌরব’ হিসেবে অভিহিত করেন ট্রাম্প। বার্ষিকী উদ্‌যাপনের প্রথা ভেঙেছেন তিনি বারবার। সাধারণত এমন উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সব নাগরিকের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের প্রত্যাশা থাকে। ওয়াশিংটনের প্রধান অনুষ্ঠানগুলোয় জীবিত সাবেক প্রেসিডেন্টরা উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে জর্জ ওয়াশিংটন, টমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট ও আব্রাহাম লিংকনের প্রতিকৃতির নিচে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প আমেরিকায় ‘কমিউনিস্ট হুমকির’ বিরুদ্ধে অভাবনীয় আক্রমণ চালান। তাদের সমর্থকদের তিনি ‘১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি ক্রমেই প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের কমিউনিস্ট হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি। শনিবারও তিনি বলেন, দেশে কখনোই কমিউনিজমকে ‘তার কুৎসিত মাথা তুলতে’ দেয়া হবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশে কমিউনিস্ট চাই না। এটি কখনো কাজ করেনি এবং করবেও না।’
ট্রাম্পের মিত্রদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারা এই বার্ষিকী উদ্‌যাপনকে দেশের বিভাজন নিরসনের বদলে আরও উসকে দেয়ার কাজে ব্যবহার করছেন এবং ঐতিহাসিকভাবে নির্দলীয় দেশপ্রেমের মুহূর্তকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ারে পরিণত করছেন। ওয়াশিংটন মনুমেন্টের ছায়ায় ভাষণস্থলের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় শহরজুড়ে হাজার হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মঞ্চের পেছনে অবস্থিত রিফ্লেকটিং পুলকে ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘আমেরিকান পতাকার নীল’ রঙে সাজাতে ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে বিশাল শৈবাল জমে পুলটি সবুজ হয়ে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ট্রাম্প ও তার কর্মকর্তারা এর জন্য অন্তর্ঘাতকারীদের দায়ী করেছেন।

আগে ন্যাশনাল মলে জনসমাগমের আকার নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকা ট্রাম্প এবার আমেরিকানদের গতকাল (শনিবার, ৪ জুলাই) রাতের অনুষ্ঠান দেখতে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি এটিকে ‘সব সময়ের সেরা প্রদর্শন’ বলে অভিহিত করেন। গত জুনের শেষে ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’ উদ্বোধনকালে তিনি বলেছিলেন, ‘আপনাদের প্রিয় প্রেসিডেন্ট বক্তব্য দেবেন। তাই দয়া করে আসুন।’ তার দাবি ছিল, পরবর্তী আতশবাজি প্রদর্শনী মার্কিন মাটিতে এযাবৎ হওয়া যেকোনো আয়োজনের চেয়ে ‘১০ গুণ বড়’ হবে।

গত আড়াই শতকে আমেরিকান অধ্যবসায় ও শক্তির উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। শনিবারের বৈরী আবহাওয়া এবং দর্শকদের ফিরে আসার বিষয়টিকেও তিনি জাতির স্থিতিশীলতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা শুনেছিলেন সব শেষ। কিন্তু কী হলো? আপনারা ফিরে এলেন।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT