বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

ভারতে চলন্ত স্লিপার বাসে কিশোরীকে ধর্ষণ, চালক-কন্ডাক্টর গ্রেফতার

  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৮ পড়েছেন

ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতের উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় একটি ফাঁকা স্লিপার বাসে ওঠার পর ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে চালক ও কন্ডাক্টর মিলে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ আগস্ট রাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় বাসচালক কুলদীপ (৩৯) ও কন্ডাক্টর সন্দীপকে (২৬) গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরপ্রদেশের মৈনপুরী জেলার বাসিন্দা ওই কিশোরী একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্যের পর তিনি কাউকে না জানিয়ে নয়ডায় থাকা তার এক কাজিনের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। রাত ৯টা দিকে ভারী বৃষ্টি ও অন্ধকারের মধ্যে ভুল করে গ্রেটার নয়ডার পারি চকে নেমে পড়েন তিনি। তবে পরে বুঝতে পারেন তখনও তার গন্তব্য নয়ডার সেক্টর-৬৩ এলাকায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ছিল।

পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে কিশোরী জানান, পারি চকের কাছে তিনি সাহায্যের জন্য একটি বাস থামার সংকেত দেন। সেটি ছিল একটি ফাঁকা স্লিপার বাস। চালক কুলদীপ ও কন্ডাক্টর সন্দীপ তাকে জানান, বাসটি নয়ডার সেক্টর-৬৩-এর দিকে যাচ্ছে। এরপর তিনি বাসটিতে ওঠেন।

কিশোরীর অভিযোগ, বাসটি চলতে শুরু করার কিছুক্ষণ পর কন্ডাক্টর তার সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন। পরে চালক ও কন্ডাক্টর দুজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাসটি গ্রেটার নয়ডার পারি চক থেকে দিল্লির কাশ্মীরি গেটের দিকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। পরে কাশ্মীরি গেটের কাছে রিং রোড এলাকায় কিশোরীকে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। এরপর তিনি কাশ্মীরি গেট থানায় গিয়ে ঘটনার কথা জানান।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, বাসটি এর আগে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্রেটার নয়ডার সুরজপুর এলাকার একটি ওয়ার্কশপে মেরামতের জন্য নেওয়া হয়েছিল। মেরামত শেষে চালক ও কন্ডাক্টর বাসটি খালি অবস্থায় দিল্লির টিমারপুরের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় পারি চকে কিশোরীর সঙ্গে তাদের দেখা হয়। বাসটির স্লিপার বার্থে পর্দা থাকায় বাইরে থেকে ভেতরের পরিস্থিতি দেখা কঠিন ছিল বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ উত্তর দিল্লির টিমারপুরের একটি বাস পার্কিং এলাকা থেকে কুলদীপ ও সন্দীপকে গ্রেফতার করে। দুজনই বিশ্বনাথ ট্রাভেলস নামে একটি বেসরকারি পরিবহন কোম্পানিতে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছিল। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ অপহরণ ও হামলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

এছাড়াও পুলিশ বাসটি জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। তদন্তকারীরা বাসের ভেতর থেকে কিশোরীর চুলের নমুনা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি বাসটি যে পথ দিয়ে চলেছে, সেই রুটের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে এই ঘটনাটি ২০১২ সালের দিল্লির বহুল আলোচিত ‘নির্ভয়া’ মামলার পর গণপরিবহনে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নির্মম নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। ঘটনাটি ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং আইন সংস্কারের দাবি জোরালো হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT