
সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : আল্লাহ তাআলা আখেরাতে ইহজীবনের ভালো-মন্দ কাজের প্রতিদান দেবেন। যারা পার্থিব জীবনে আল্লাহ তাআলার বিধান মেনে জীবন কাটিয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে জান্নাতসহ আরো অনেক নিআমত দান করবেন। কোরআন কারীমের ভাষায় তারাই সফলকাম। জান্নাতে তারা নিআমত উপভোগ করতে করতে বলবে : ‘আমাদের প্রতিপালক আমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমরা তা সত্য পেয়েছি।’ (সূরা আরাফ : ৪৪)।
অন্যদিকে যারা দুনিয়ায় আল্লাহ ও রাসূলের অবাধ্যতায় জীবন কাটিয়েছে, তারা সেদিন চরম ব্যর্থ হবে। সেদিন অনুতাপ করে তারা নিজেদেরকেই দোষারোপ করতে থাকবে। আর বলবে : ‘হায় আফসোস! যদি এমন না করতাম!’ আখেরাতে বিফল জাহান্নামীরা কীভাবে আফসোস করবে, তা বিশদভাবে আল্লাহ তাআলা কোরআন কারীমে বলে দিয়েছেন।
অপরাধীদের আমলনামা উপস্থিত করা হলে, তারা তা দেখে চমকে উঠবে এবং আফসোস করতে থাকবে। কোরআন কারীমে ইরশাদ হয়েছে : ‘আমলনামা’ সামনে রেখে দেয়া হবে। তখন তুমি অপরাধীদেরকে দেখবে, তাতে যা (লেখা) আছে, তার কারণে তারা আতঙ্কিত এবং তারা বলছে, হায়! আমাদের দুর্ভোগ! এটা কেমন কিতাব, যা আমাদের ছোট-বড় যত কর্ম আছে, সবই পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে রেখেছে। তারা তাদের সমস্ত কৃতকর্ম সামনে উপস্থিত পাবে। তোমার প্রতিপালক কারো প্রতি কোনো জুলুম করবেন না। (সূরা কাহ্ফ : ৪৯)।
আমলনামা উপস্থিত করা হলে তারা দেখবে দুনিয়াতে ছোট-বড় যা কিছু করেছে, সব সেখানে লেখা রয়েছে। ইহজীবনে যে গুনাহকে তুচ্ছ ভেবে উদাসীন থেকেছে। আমলনামায় তা দেখে হতভম্ব হয়ে যাবে, হায় হায়! এ কী! কোনো কিছুই বাদ দেয়া হয়নি! আরো ইরশাদ হয়েছে : সেই ব্যক্তি, যার আমলনামা দেয়া হবে তার বাম হাতে; সে বলবে, আহা! আমাকে যদি আমলনামা দেয়াই না হতো! আর আমি জানতেই না পারতাম, আমার হিসাব কী? আহা! মৃত্যুতেই যদি আমার সব শেষ হয়ে যেত! আমার অর্থ-সম্পদ আমার কোনো কাজে আসল না! আমার সব ক্ষমতা লুপ্ত হয়ে গেল। (সূরা আলহাক্কাহ : ২৫-২৯)।
অপরাধীদের বাম হাতে আমলনামা দেয়া হবে, তারা আমলনামা গ্রহণ করতে চাইবে না। বলবে, হায়! যদি আমলনামা না দেয়া হতো! পৃথিবীতে যে মৃত্যু থেকে বাঁচতে সর্বস্ব ত্যাগ করতেও পিছপা হতো না, সেই মৃত্যুই তখন বড় কামনার বিষয় হবে। জাগতিক ধন-সম্পদ বিত্ত-বৈভব ও ক্ষমতা সেদিন কোনো কাজে আসবে না।
শয়তানের অনুসরণে যারা জীবন কাটায়। শয়তানের দোসর হয়ে নিজেও আল্লাহ-রাসূলকে ভুলে থাকে, মুমিনদেরকেও দ্বীনের পথে বাধা দান ও পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে। কিয়ামতের দিন যখন তারা এর ভয়ঙ্কর পরিণতি দেখবে, তখন শয়তান থেকে যোজন যোজন দূরত্ব কামনা করবে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে : পরিশেষে এরূপ ব্যক্তি যখন আমার কাছে আসবে তখন (সে তার সঙ্গী শয়তানকে) বলবে, আহা! আমার ও তোমার মধ্যে যদি পূর্ব ও পশ্চিমের ব্যবধান থাকত। কেননা তুমি বড় মন্দ সঙ্গী ছিলে। (সূরা যুখরুফ : ৩৮)।
অথচ আল্লাহ তাআলা কোরআনে বহুবার সতর্ক করে দিয়েছেন, শয়তান কিয়ামত পর্যন্ত মানুষকে পথভ্রষ্ট করার অঙ্গীকার করেছে। শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু। শয়তান দুনিয়াতে মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপথগামী করে রাখছে। আখেরাতে সে বলবে, আমি তো তোমাদেরকে জোর করিনি, আমি শুধু ডেকেছিলাম, তোমরা সাড়া দিয়েছ। কাজেই আমাকে দোষ না দিয়ে নিজেদেরকেই দোষারোপ কর। বস্তুত শয়তানের তখন তাদেরকে সাহায্য করার কোনো উপায়ও থাকবে না।পবিত্র কোরআনে মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা নিয়ে বলা হয়েছে। এমনকি ইহকাল ও পরকাল নিয়েও দেওয়া হয়েছে অনেক বার্তা। সেগুলোতে একাধিকবার মুমিনদের নির্ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ বান্দাদের ইহকাল ও পরকালীন জীবনের এই সুসংবাদ দিয়েছেন আল্লাহ।
নি¤েœ তাদের সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো:
১. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও তার নির্দেশনা পালন মানুষকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখে।
কারণ বিশ্বাস ইহকাল ও পরকালীন মুক্তির মূল ভিত্তি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩৮)
২. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের পাশাপাশি ভালো কাজের মাধ্যমে মানুষ নির্ভয় জীবন যাপন করে।
মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর বিশ্বাস করে এবং ভালো কাজ করে, তাদের রবের কাছে তাদের জন্য মহাপ্রতিদান রয়েছে এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৬২)
৩. ইসলাম পালনের পাশাপাশি নিপুণভাবে কাজ করলে মহা প্রতিদান রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘অবশ্যই, কেউ আল্লাহর কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করলে এবং ভালো কাজ করলে তার প্রতিদান তার রবের কাছে রয়েছে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১১২)
৪. গরিব-দুঃখীদের জন্য খরচের মাধ্যমে ভয় ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা যায়।
তবে দান করে কাউকে কষ্ট দেওয়া বা খোঁটা দেওয়া যাবে না। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, অতঃপর যা ব্যয় করে তার কথা বলে বেড়ায় না এবং কষ্ট দেয় না, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৬২)
৫. সব সময় ও সব স্থানে অকাতরে দানকারীর জন্য সুসংবাদ রয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা তাদের সম্পদ রাত ও দিনে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে তাদের জন্য তাদের রবের কাছে প্রতিদান রয়েছে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না। ’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৪)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান আনবে, ভালো কাজ করবে, নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে, জাকাত দেবে, তাদের জন্য তাদের রবের কাছে প্রতিদান রয়েছে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২৭৭)ক্ষণস্থায়ী এ ভুবনে তারা বড়ই দুর্ভাগা, যারা এ মরীচিকাময় জীবনের জন্যই আমৃত্যু চেষ্টা ও শ্রম ব্যয় করে যায়। কিন্তু আখেরাতের অনন্ত জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে অবহেলা করে। নবীজী ওই ব্যক্তিকে বুদ্ধিমান বলেছেন, যে আখেরাতের জন্য কাজ করে। বেছে বেছে এমন কাজ করার চেষ্টা করে, যেটা অনন্ত জীবনের সম্বল হবে। জাহান্নামীরা আল্লাহ তাআলার কাছে অনুনয় করে শাস্তি এড়াতে না পেরে কমাতে চাইবে। জাহান্নামের পাহারাদার ফেরেশতাগণকে তারা বলবে, আপনারা আল্লাহর কাছে সুপারিশ করুন, যেন আমাদের শাস্তি খানিকটা কমিয়ে দেন, অন্তত এক দিনের জন্য হলেও কিছুটা লাঘব করে দেন। ফিরিশতাগণ তাদের হয়ে সুপারিশ করবেন না।
তারা জান্নাতীদেরকে ডাক দিয়ে বলবে, ‘আমাদের ওপর একটু পানি ঢেলে দাও, অথবা আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে যে নিআমত দান করেছেন, তার সামান্য কিছু হলেও দাও। জান্নাতীরা বলবে, এসব নিআমত আল্লাহ তাআলা কাফেরদের জন্য হারাম করেছেন।’ (সূরা আরাফ : ৫০)।
জান্নাতীদের সঙ্গে তাদের এমন কথাও হবে যে, জান্নাতীরা জিজ্ঞেস করবে, তোমরা জাহান্নামে কেন? তারা উত্তরে বলবে, ‘আমরা নামাজ পড়তাম না, মিসকীনদেরকে খাওয়াতাম না, আখেরাত দিবসকে অস্বীকার করতাম। এখন এই নিশ্চিত বিষয়টি আমাদের সামনে এসে গেছে।’ (সূরা মুদ্দাছ্ছির : ৪৩-৪৭)। কাজেই এখন আর তাদের জন্য কেউ সুপারিশ করবে না।
এভাবে তারা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে যাবে। আরহামুর রাহিমীন তাদের কথা শুনবেন না। রাসূল ও ফিরিশতাগণ তাদের জন্য সুপারিশ করবেন না। হাশরের ময়দানে তাদের স্বজন-পরিজন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। শয়তানও তাদের উপকার করতে ব্যর্থ হবে। তখন তারা আফসোস করে বলবে, ‘হায়! যদি আমরা মাটি হয়ে যেতাম।’ তারা মাটির সাথে মিশে যেতে চাইবে। নিজেদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে চাইবে। কিন্তু শাস্তি ভোগ করা ছাড়া কিছুই করার থাকবে না। আল্লাহ তাআলা কোরআনে অনেক জায়গায় বলেছেন, আমি জানি, শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার পরে তারা কী বলবে। বিভিন্নভাবে তিনি কোরআনে তা ব্যক্ত করেছেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেদায়েত দান করুন, যেন সময় থাকতেই নিজেদেরকে শুধরে নিতে পারি। রাব্বুল আলামীন যে ভয়াবহ দিবসের ব্যাপারে বহুবার সতর্ক করেছেন, সেই চূড়ান্ত ফলাফলের দিন যেন আমাদেরকে আফসোস করতে না হয়। যাদের ব্যাপারে কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, তোমাদেরকে তো সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তোমরা তা শোনোনি। কাজেই এখন তোমাদের কথাও শোনা হবে না। তোমরা জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে থাকো। আমরা যেন সেদিন ওই দলভুক্ত না হই, যাদের ব্যপারে রাসূল বলবেন, আল্লাহ! এরা আপনার কথা বিলকুল পরিত্যাগ করেছিল।
আল্লাহ তাআলা সবাইকে রক্ষা করুন এবং তাঁর পথে ফিরে আসার ও দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার তাওফীক দান করুন- আমীন।নবুয়তের ধারা শেষ হওয়ার ঈমান : নবি-রাসুল আগমনের ব্যাপারে আমাদের অন্তরে এই আকিদাও পোষণ করতে হবে যে, সর্বশেষ নবি ও রাসুল হলেন বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তার শুভাগমনের মাধ্যমে নবি রাসুলগণের আগমনের ধারা শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর আর কোন নবি ও রাসুল এই পৃথিবীতে আগমন করবে না। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবি ও রাসুল মর্মে আল কুরআনে এসেছে, ‘মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোন পুরুষের পিতা নয়; বরং সে আল্লাহর রাসুল ও শেষ নবি। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আহযাব, আয়াত: ৪০) বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও দীপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ‘আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবিগণের অবস্থা এমন, এক ব্যক্তি যেন একটি গৃহ নির্মাণ করল; তাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করল, কিন্তু এক পাশে একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেল। অতঃপর লোকজন এর চারপাশে ঘুরে আশ্চর্য হয়ে বলতে লাগল ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হল না কেন? মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমিই সে ইট। আর আমিই সর্বশেষ নবি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫৩৫)।
পরকালের ওপর ঈমান : পরকালের উপর বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিশ্বাস ছাড়া কেউ ঈমানদার হতে পারে না। অবশ্য পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করার অর্থ হলো, মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়া ও পার্থিব জীবনে সম্পন্ন করা সকল কাজের প্রতিদান পাওয়ার মনোভাব পোষণ করা। মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ও দুনিয়ার জীবনের কার্যকলাপের প্রতিদান পাওয়ার বিশ্বাস মাটির মানুষকে সোনার মানুষে পরিণত করে। পৃথিবীর বুকে যত অন্যায় ও অপরাধ সংঘটিত হয় সেগুলো পরকালের বিশ্বাস না থাকা কিংবা দুর্বল থাকার কারণে হয়। যদি কোন ব্যক্তি মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়ার বিশ্বাস রাখে, তাহলে সেই বিশ্বাস তাকে সব রকমের অন্যায়, অনাচার, দুর্নীতি ও কদাচার হতে বিরত থাকতে অনুপ্রাণিত করে। পক্ষান্তরে কোন লোক যদি পরকালের বিশ্বাস হতে মুক্ত থাকে, তাহলে আল্লাহর আজাবের কোন ভয় তার থাকে না।
আল্লাহ তাআলার সামনে জবাবদিহিতার কোনো চিন্তাও তার মনে উদয় হয় না। সে যা ইচ্ছা তাই করতে পারে। সব ধরনের অন্যায়, অনাচার ও পাপাচারের পথে তার কোন অন্তরায় থাকে না। এজন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য স্বপ্নের পৃথিবী গড়ার জন্য পরকালে বিশ্বাসের বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কেয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেওয়া হবে। যাকে অগ্নি হতে দূরে রাখা হবে ও জান্নাতে দাখিল করা হবে সে-ই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত অন্য কিছু নয়।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৫) আলোচ্য আয়াতে পরকালের মূলতত্ত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। তাই প্রতিটি মুসলমানকে অবশ্যই মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়া ও পার্থিব জীবনে সম্পাদিত সকল কাজের প্রতিদান পাওয়ার বিশ্বাস রাখতে হবে।
তাকদিরের ওপর ঈমান : এই মহাবিশ্বে যা কিছু হয় তার সবই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হয় বলে বিশ্বাস পোষণ করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত। এর নাম তাকদিরের প্রতি ঈমান। পৃথিবীর বুকে প্রত্যহ যা ঘটছে তার সবই আল্লাহ তায়ালার পরিকল্পনা, অবগতি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঘটছে। কোনো গ্রহ ও রাশির প্রভাব তাতে ক্রিয়াশীল নয়। যে ব্যক্তি তাকদিরের এই বিশ্বাস অন্তরে লালন করে সে হতাশা ও নিরাশা হতে মুক্ত থাকে। এমন লোক কোন তান্ত্রিক, গণক ও ভবিষ্যদ্বক্তার কাছে যায় না। কাউকে নিজের হাতের রেখা দেখিয়ে ভাগ্য জানতে চায় না। কোন মাজার বা ভ- পীর ফকিরের দ্বারস্থ হয় না। কিছু পাওয়ার পর সে অধিক পরিমাণে উল্লসিত হয় না।
আবার কোন কিছু না পাওয়ার কারণে অত্যধিক বেদনাহত হয় না। না পাওয়ার বিরহ তাকে কাতর করতে পারে না। সে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা হতে মুক্ত থাকে। তার কাজ-কর্মে ভারসাম্য থাকে। সে মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি বিশ্বাস রাখে যে, ‘পৃথিবীতে বা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপর্যয় আসে আমি তা সংঘটিত করার পূর্বেই লিপিবদ্ধ থাকে; আল্লাহর পক্ষে এটা খুবই সহজ।’ (সূরা হাদিদ, আয়াত: ২২) আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত নেয়ামত পাওয়ার বিশ্বাস মানুষকে কর্মবিমুখ নয়, বরং কর্মচঞ্চল রাখে। অবশ্য হালাল-হারামের বাছ-বিচার না করে সে অঢেল ধন সম্পদ সঞ্চয় করতে যায় না। কারণ সে বিশ্বাস করে, আমার ভাগ্যে যা নির্ধারিত আছে তা অবশ্যই অর্জিত হবে। আমার জন্য আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত নেয়ামত অন্য কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
ভ্রান্ত আকিদার পরিণাম : ইসলামের দৃষ্টিতে বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাস বলতে আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি গ্রন্থাবলি, রাসুলগণ, পরকাল ও তাকদিরের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করাকে বুঝায়। যেসব লোক নির্ভেজালভাবে এসব আকিদা অন্তরে লালন করবে তারা ইসলামের দৃষ্টিতে মুমিন বলে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে যারা এসব বিশ্বাস অন্তরে পোষণ করবে না তারা বেঈমান হয়ে যাবে। ইহকালীন জীবনকে সুখময় ও শান্তিময় করতে এবং পরকালীন জীবনে চিরন্তন আযাব থেকে মুক্তি পেতে বিশুদ্ধ আকিদা বিশ্বাস লালন করা ছাড়া অন্য কোন নিরাপদ পথ নেই।কেননা বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাসের অধিকারী সৎকর্মশীল মুমিনগণ চির সুখের জান্নাতে চিরকাল বসবাস করবে। পক্ষান্তরে অশুদ্ধ আকিদার বাহক বেঈমান কাফেররা সব সময় নরকের আগুনে প্রজ্বলিত হতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আমার আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে অগ্নিতে দগ্ধ করবই; যখনই তাদের চর্ম দগ্ধ হবে তখনই তার স্থলে নূতন চর্ম সৃষ্টি করব, যাতে তারা শাস্তি ভোগ করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। যারা ঈমান আনে ও ভাল কাজ করে তাদেরকে দাখিল করব জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত; সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে, সেখানে তাদের জন্যে পবিত্র স্ত্রী থাকবে এবং তাদেরকে চিরস্নিগ্ধ ছায়ায় দাখিল করব।’ (সূরা নিসা, আয়াত: ৫৬-৫৭)।ইমানের অন্যতম ভিত আখেরাতের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস। মৃত্যু পরবর্তী সময়ে সংঘটিত বিষয় নিয়ে আল্লাহ এবং তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যেসব সংবাদ দিয়েছেন তা সমর্পণ চিত্তে মেনে নেওয়ার নামই হলো ইমান। আল্লাহতায়ালা আনুগত্যশীল বান্দার জন্য যে প্রতিদান রেখেছেন এবং অবাধ্যদের জন্য যে শাস্তি রেখেছেন, সেসবের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাসও এর অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘পুণ্য তো কেবল এটাই নয় যে, তোমরা নিজেদের চেহারা পূর্ব বা পশ্চিমমুখী (নামাজ) করবে। বরং পুণ্য হলো, যে আল্লাহর প্রতি এবং শেষদিনের প্রতি ইমান রাখে।’ সুরা বাকারা : ১৭৭
আখেরাত দিবসের প্রতি বিশ্বাসের মানদণ্ডে খাঁটি ও সত্যবাদী মুমিন ও অবিশ্বাসী ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়। কারণ আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসের সম্পর্ক মূলত গায়েবের প্রতি ইমান রাখা এবং সন্দেহ ও সংশয়কে ছুড়ে ফেলার নাম। কোরআনে কারিমের শুরুতে তাই আল্লাহ বলেন, ‘আলিফ-লাম-মিম। এটি এমন কিতাব, যার মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই। এটা হেদায়েত এমন ভীতি অবলম্বনকারীদের জন্য, যারা অদৃশ্য বিষয়াবলিতে ইমান রাখে এবং নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদের যা কিছু দিয়েছি, তা থেকে (আল্লাহর সন্তোষজনক কাজে) ব্যয় করে।’ সুরা বাকারা : ১-৩
নিজ কওমের মধ্যে রাসুলদের যে দাওয়াতি নির্দেশনা ছিল, তার অন্যতম হলো কিয়ামত দিবসের প্রতি ইমান আনা এবং কিয়ামতের নানা অবস্থা ও ভয়াবহতার বিষয়ের প্রতি আহ্বান করা। কারণ আখেরাতের স্মরণ ব্যক্তির কল্যাণ ও হেদায়েতের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকার প্রমাণ বহন করে। কিয়ামতের ময়দানে উপনীত হওয়ার প্রথম স্তরের নাম হলো ব্যক্তির মৃত্যু। তারপর তার কবর। আর কবর! সে তো নানা পরীক্ষার স্থান। হয়তো ব্যক্তি তাতে সম্মানিত হবে নতুবা হবে লাঞ্ছিত। মুমিনরা হবে সফলকাম এবং তাদের সম্মানিত করা হবে। আর অবিশ্বাসীরা হবে অপদস্ত এবং শাস্তির সম্মুখীন।
কবর হয়তো নাজ-নেয়ামতে পূর্ণ থাকবে নতুবা আজাবে ভরা থাকবে। এরপরই হবে পুনরুত্থান এবং আখেরাত। আল্লাহ বলেন, ‘এবং এ জন্য যে, কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী। তাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং এ জন্য যে, যারা কবরে আছে আল্লাহ তাদের সবাইকে পুনরুজ্জীবিত করবেন।’ সুরা হজ : ৭
এরপর রুহগুলোকে যার যার দেহে ফেরত দেওয়া হবে। লতাপাতা ফেটে জমিনের ভূগর্ভ থেকে বের হওয়ার ন্যায় জমিনগুলো ফেটে সবাই কবর থেকে বের হয়ে আসবে। এরূপ অবস্থার অবতারণা শেষে বড় কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। মানুষেরা তাদের কবর থেকে নগ্ন পায়ে, উলঙ্গ হয়ে এবং খতনাহীন হয়ে বের হয়ে আসবে। সূর্য তাদের নিকটবর্তী হবে। শরীরের ঘাম বেয়ে পড়বে। প্রত্যেকের আমল পরিমাপের জন্য মিজানের পাল্লা স্থাপন করা হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তখন যাদের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফলকাম হবে। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে; তারাই এমন, যারা নিজেদের জন্য লোকসানের ব্যবসা করেছিল। তারা সদা-সর্বদা জাহান্নামে থাকবে।’ সুরা মুমিনুন : ১০২-১০৩
কিয়ামতকালে প্রত্যেকের আমলনামা প্রকাশ করা হবে। কারও আমলনামা ডান হাতে আবার কারও আমলনামা বাম হাতে বা পৃষ্ঠদেশে পেশ করা হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রত্যেক মানুষের (কাজের) পরিণাম তার গলদেশে সেঁটে দিয়েছি এবং কিয়ামতের দিন আমি (তার আমলনামা) লিপিবদ্ধরূপে তার সামনে বের করে দেব, যা সে উন্মুক্ত পাবে। (বলা হবে) তুমি নিজ আমলনামা পড়। আজ তুমি নিজেই নিজের হিসাব নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ সুরা ইসরা : ১৩-১৪
এরপর আল্লাহতায়ালা সমগ্র সৃষ্টির হিসাব নেবেন। তিনি তার মুমিন বান্দার সঙ্গে একাকী বসবেন এবং তার গোনাহকে স্বীকার করতে বলা হবে আর সে স্বীকার করে নেবে। আর সে আল্লাহর রহমত প্রত্যাশী হবে। আর যে কাফের ও মুনাফিক হয়তো সে স্বীকার করবে। অথবা এই বিষয়ে মিথ্যা তর্কে লিপ্ত হবে। এই মিথ্যাবাদীর কান, চোখ এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকই সেই সব মিথ্যার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে। এরপর তাদের জন্য জাহান্নামকে উন্মোচিত করা হবে। সেদিকে তাদের নিয়ে যাওয়া হবে এবং তাতে তারা নিক্ষেপিত হবে।
এদিকে মুমিন যারা, তারা একটু বিলম্ব করবে। যাতে সম্মানিত হাওজে কাউসার থেকে তারা পান করতে পারে। নবীজির হাউজ। যে হাউজের পানি দুধের চেয়েও সাদা এবং মধুর চেয়েও সুমিষ্ট। আকাশের তারকারাজির ন্যায় অগণিত পানপাত্র হবে। যে কূপের দৈর্ঘ্য এক মাসের পথ। আর প্রস্থও তেমনি এক মাসের পথ। এ হাউজে কাউসার থেকে একবার যে পান করবে, সে কখনো পিপাসার্ত হবে না।
তারপর মুমিনদের জন্য জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যকার একটি পুলসিরাত কায়েম করা হবে। প্রত্যেকে তার আমলের পরিমাপ অনুযায়ী পার হয়ে যাবে। তাদের অগ্রভাগে থাকবে নবী ও রাসুলরা। এসব ভয়াবহ পরিস্থিতি ও কঠিন অবস্থায় দেখে বলবে, ‘হে আল্লাহ, আমাদের বাঁচান! হে আল্লাহ, রক্ষা করুন। এরপর তাদের জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যকার একটি পুলের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হবে। এরপর তাদের কারও কারও কাছ থেকে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। এরপর তাদের পূতঃপবিত্র করে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। আল্লাহ বলেন, ‘তার (জান্নাতের) রক্ষীরা তাদের বলবে, আপনাদের প্রতি সালাম। আপনারা সুখে থাকুন। আপনারা এতে স্থায়ী অবস্থানের জন্য প্রবেশ করুন। তারা (জান্নাতবাসীরা) বলবে, সমস্ত শোকর আল্লাহর, যিনি আমাদের সঙ্গে কৃত নিজ ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন এবং আমাদের এরূপ করে এ ভূমির অধিকারী বানিয়েছেন যে, আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা, সেখানেই ঠিকানা বানাতে পারি। প্রমাণিত হলো উৎকৃষ্ট পুরস্কার সৎকর্মশীলদের জন্য। তুমি ফেরেশতাদের দেখতে পাবে, তারা আরশের চারপাশে ঘিরে তাদের প্রতিপালকের প্রশংসার সঙ্গে তার তাসবিহ পাঠ করছে এবং মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করে দেওয়া হবে আর বলা হবে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।’ সুরা জুমার : ৭৩-৭৫
আখেরাত দিবস এবং এর ভয়াবহতা ও নানা অবস্থার ওপর প্রকৃতরূপে বিশ্বাস স্থাপন ব্যক্তির জীবনকে সুন্দর করে, অন্তরকে পবিত্র করে। জীবনে আনে স্থিরতা ও অবিচলতা। আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস এবং এর স্মরণের কারণে ব্যক্তি কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হয় না। নিজের জীবনকে ধ্বংসকারী কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়নি। পরকালের অনিবার্য ও দীর্ঘস্থায়ী সুখ লাভে কোনো ধরনের শৈথিল্য করে না।
পার্থিব এই জীবন আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। আর আখেরাতের আগমন অবশ্যম্ভাবী। আর মুমিনের সর্বোচ্চ প্রত্যাশার জায়গা হলো, সে কামনা করে তার আমলের পাল্লা যেন কাল কিয়ামত দিবসে ভারী হয়। ঠিক তখনই তাকে সুসংবাদ দেওয়া হবে। এরপর তার গন্তব্য হবে চিরস্থায়ী সে স্থান। যা একমাত্র মহান আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহে সে লাভ করবে।নিজ আমলগুণে মানুষ যেমন জান্নাতি হতে পারেন, তেমনি কর্মদোষে হতে পারেন জাহান্নামি। আর জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাই একজন ঈমানদারের বড় সাফল্য। অর্থাৎ মৃত্যুর পরই নির্ধারিত হবে, কে সফল আর কে ব্যর্থ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। কেবলমাত্র কেয়ামতের দিনই তোমাদেরকে তোমাদের কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দেওয়া হবে। অতঃপর যাকে আগুন থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে সে-ই সফলকাম। আর পার্থিব জীবন ছলনাময় ভোগ ছাড়া আর কিছু নয়। (সুরা আলে ইমরান : ১৮৫)। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত দুনিয়ার মরীচিকার পেছনে জীবনকে ধ্বংস না করে আল্লাহর নির্দেশ পালন করা। নামাজ-রোজা-হজ যাকাত যথাযথ সম্পন্ন করা এবং যেসব আমলের মাধ্যমে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, সেই আমলগুলোতে আত্মনিয়োগ করা।
জান্নাত-জাহান্নামে যাওয়ার প্রধান দুই কারণ : আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেন, মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে নেবে এমন কিছু সম্পর্কে রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ভয় ও সুন্দর চরিত্র। অতঃপর মানুষকে যা জাহান্নামে বেশি নেবে এমন বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, ‘মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪)। জাহান্নাম থেকে বাঁচায়, এমন কিছু আমল নিচে তুলে ধরা হলো :
ঈমান বাঁচায় জাহান্নাম থেকে : ঈমান সবচেয়ে বড় সম্পদ। যে এই সম্পদ অর্জন করতে পারেনি, সে কিছুই পায়নি। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলতেন, কেয়ামতের দিন অবিশ্বাসীকে হাজির করা হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে তোমার যদি দুনিয়া ভর্তি সোনা থাকত তাহলে তুমি কি বিনিময়ে তা আজাব থেকে বাঁচতে চাইতে না? সে বলবে, হ্যাঁ। এরপর তাকে বলা হবে তোমার কাছে তো এর চেয়ে বহু ক্ষুদ্র বস্তু (আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে মেনে নেওয়া) চাওয়া হয়েছিল। (বুখারি : ৬৫৩৮)।
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও পুণ্য বিদ্যমান থাকবে, তাকে জাহান্নাম হতে বের করা হবে এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি গম পরিমাণও পুণ্য বিদ্যমান থাকবে তাকে জাহান্নাম হতে বের করা হবে এবং যে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকি থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।’ (বুখারি : ৪৪)।
দান-সদকা ও সদ্ব্যবহার জাহান্নামের প্রতিবন্ধক : আদি ইবনে হাতিম (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো। এরপর তিনি পিঠ ফিরালেন এবং মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। আবার বলেন, তোমরা জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো। এরপর তিনি পিঠ ফেরালেন এবং মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। তিনবার এরূপ করলেন। এমনকি আমরা ভাবছিলাম যে তিনি বুঝি জাহান্নাম সরাসরি দেখছেন। তিনি আবার বলেন, তোমরা এক টুকরা খেজুর দিয়ে হলেও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচো। আর যদি কেউ সেটাও না পাও তাহলে উত্তম কথার দ্বারা হলেও (আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা করো)। (বুখারি : ৬৫৪০)।
আল্লাহর পথে রোজা রাখা : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিন রোজা রাখে, আল্লাহ তার বিনিময়ে জাহান্নাম থেকে তার মুখম-লকে সত্তর বছরের দূরত্বে রাখেন। (ইবনে মাজাহ: ১৭১৮)। পরিবারকে সুশিক্ষা দেওয়া। আলী (রা.) আল্লাহর বাণী- ‘তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।’ (সুরা তাহরিম : ৬) এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পরিবার-পরিজনকে কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দান করো।’ (তারগিব ওয়াত তারহিব : ১১৯)। এর কারণ হলো, পরিবার যখন সুশিক্ষা পাবে, তখন তারা আল্লাহর আনুগত্য করবে, এবং তার পূর্বপুরুষদের জন্য দোয়া করবে, এতে করে তারা নিজেরাও জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে পারবে, তেমনি তাদের দোয়া ও নেক আমলের সুফল তাদের সুশিক্ষাদাতা পরিবারকর্তাও পাবে।তার সাতটি দরজা রয়েছে। প্রতিটি দরজার জন্য রয়েছে তাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট একটি শ্রেণী’।
Leave a Reply