শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে খাল পরিষ্কারের কাজ করলেন উজিরপুরের ইউএনও নড়াইলে নারী নৌকা বাইচ, সাংস্কৃতিক উৎসব  ও ফ্রি হেলথ ক্যাম্প  উদ্বোধন সাতক্ষীরায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট কিশোর গ্যাং: এর অপরাধ নিবে কার কাঁধে? নতুন কুঁড়ির সেরা ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তির আমন্ত্রণপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী খুমেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোস্তফা কামাল প্রধানমন্ত্রীকে নিজ হাতে লেখা কোরআন উপহার দিলেন ৯ বছরের শিশু কৃষিতে সফল উপকূলের নারীরা ভেরি বাধ ভাঙ্গার আতঙ্ক, এখনো ঘুমাতে পারে না উপকূলের মানুষ

আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮

  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৯ পড়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে। আসামের দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যটির সাতটি জেলায় ৩ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

এএসডিএমএ’র সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও, বিশ্বনাথ ও কামরূপ মেট্রোপলিটন- এই সাতটি জেলার ৫৫১টি গ্রাম এখনো প্লাবিত। পানিতে তলিয়ে আছে ২১ হাজার ৫২৩ হেক্টরের বেশি ফসলি জমি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা চরাইদেও জেলায়, যেখানে ১ লাখ ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। এরপরেই রয়েছে শিবসাগর (৮৪ হাজার ৬০০ জন) ও জোরহাট (৪৯ হাজার ৯১১ জন)। বর্তমানে ৭১টি ত্রাণশিবিরে ১৬ হাজার ৫০০-র বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং আরো ৭২ হাজার মানুষকে ত্রাণকেন্দ্রের মাধ্যমে সহায়তা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া ১১ হাজারের বেশি গবাদিপশু পানিতে ভেসে গেছে।

অন্যদিকে, গুয়াহাটিসহ কামরূপ মেট্রোপলিটন এলাকায় নদীভাঙনের পাশাপাশি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে জলাবদ্ধতা। শহরের পদুমবাড়ি, লাচিত নগর, জ্যু রোড, অনিল নগর, নবীন নগর ও হাতিগাঁওসহ ১০টি এলাকা পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গত এক সপ্তাহের মধ্যে এটি তাদের দ্বিতীয় বৈঠক। কেন্দ্রীয় সরকার ত্রাণ, উদ্ধার ও পুনর্নির্মাণে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ২১ জুলাইয়ের পর ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় পানি নামতে শুরু করলেও ঘরবাড়িতে কাদা ও পলি জমে থাকায় মানুষ বাড়ি ফিরতে পারছেন না। নাগাল্যান্ডের পাহাড় থেকে আসা কাদার কারণে অনেক সড়কও অবরুদ্ধ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের ব্যাংক ঋণে বিশেষ সুবিধা দিতে ব্যাংক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক সাহায্যের সম্ভাবনা খারিজ করে তিনি জানান, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গেই এই সংকট মোকাবিলায় সক্ষম।

চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে গত ২৮ ও ২৯ জুলাই অঞ্চলটি সফর করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ। তিনি সেখানে সেনাসদস্যদের কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

তবে বন্যাদুর্গতদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের নতুন পূর্বাভাস। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) জানিয়েছে, ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্টের মধ্যে আসাম, অরুণাচল প্রদেশ ও নাগাল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় ফের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আসামের তিনসুকিয়া এবং নাগাল্যান্ডের সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতা আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT