শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় চার নেতা ও জয় বাংলার নামে থাকা কোস্টগার্ডের ৫ জাহাজের নাম বদল পুলিশ সদস্যদের পিটিয়ে বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে গেলেন কুবি শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে খাল পরিষ্কারের কাজ করলেন উজিরপুরের ইউএনও নড়াইলে নারী নৌকা বাইচ, সাংস্কৃতিক উৎসব  ও ফ্রি হেলথ ক্যাম্প  উদ্বোধন সাতক্ষীরায় খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ৪৪ লাখ টাকার মালামাল লুট কিশোর গ্যাং: এর অপরাধ নিবে কার কাঁধে? নতুন কুঁড়ির সেরা ৪০ জনকে স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তির আমন্ত্রণপত্র দিলেন প্রধানমন্ত্রী খুমেক হাসপাতালের নতুন পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ মোস্তফা কামাল প্রধানমন্ত্রীকে নিজ হাতে লেখা কোরআন উপহার দিলেন ৯ বছরের শিশু কৃষিতে সফল উপকূলের নারীরা

ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক দিচ্ছে চীন

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৯ পড়েছেন

আন্তর্জািতক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ইরান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন-নির্মিত কাঁধে বহনযোগ্য ৪০০টি আকাশ-প্রতিরক্ষা উৎক্ষেপকের প্রথম চালান পেতে যাচ্ছে।

এই চুক্তির সঙ্গে সমর্কিত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। ৬০-৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এসব অত্যাধুনিক অস্ত্র যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তেহরান মনে করছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

এই যুদ্ধ ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত অবকাঠামো রক্ষা করার সক্ষমতার দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ৩০০ থেকে ৪০০টি বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ম্যানপ্যাড) ক্রয় করা হবে, যার মধ্যে চীনের তৈরি কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, হংকং-ভিত্তিক সংস্থা ঝংকিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের সঙ্গে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ইরানের পক্ষ এবং চীনা সরবরাহকারীর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছিল।

বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে এ সংবাদের কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। চীন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অবসানে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকা পালন করে আসছে।

বেইজিং-ভিত্তিক ঝংছিং বাওশাং গ্রুপ, যা ঝংছিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের মূল সংস্থা, মঙ্গলবার তাৎক্ষণিকভাবে এ বিয়য়ে কোনো তথ্য জানায়নি।

কয়েকমাস ধরে চলা লড়াইয়ের পর ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার আবারও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছে তেহরান।

এই লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিমান-প্রতিরক্ষা স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে যাচ্ছে এবং তেহরান এর জবাবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই সংঘাত উন্নত বিমান এবং নির্ভুলভাবে পরিচালিত অস্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানের নির্দিষ্ট সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে রক্ষা করার চেষ্টা এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।

গত শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে ওয়াশিংটন হঠাৎ করে গত দুই সপ্তাহ ধরে চালানো বোমাবর্ষণ স্থগিত করেছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পাঁচ মাস ধরে চলা এই সংঘাতের অবসানে আলোচনা ব্যর্থ হলে হামলা পুনরায় শুরু হবে।

শত শত ম্যানপ্যাড সরবরাহের ফলে ইরানের স্বল্প-পাল্লার বিমান-প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ভাণ্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং চীনের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক কতটা গভীর হচ্ছে, তা আরও স্পষ্ট হবে।

সূত্রগুলো সতর্ক করেছে যে, যদিও চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে, সরবরাহের সময়সূচী, পরিমাণ এবং অন্যান্য বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিবরণ এখনও পরিবর্তিত হতে পারে।

সূত্রগুলোর মতে, পক্ষগুলোর মধ্যে সম্মত একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী, সরবরাহ প্রাথমিকভাবে পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে করা হবে এবং তারপর পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ইরানে পাঠানো হবে। তবে, এই হস্তান্তর আকাশপথে হবে নাকি সড়কপথে হবে, তা সূত্রগুলো স্পষ্ট করেনি।

পাকিস্তানের সামরিক জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর বলেছে, চীন থেকে ইরানে বিমান প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহে পাকিস্তানের জড়িত থাকার জল্পনা সম্পূর্ণ মনগড়া ও মিথ্যা।

যদিও ইরান গত দুই দশকে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং রাডারে উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহনযোগ্য আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলোকে দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া যায়, ছোট দল দ্বারা পরিচালনা করা যায় এবং ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করা যায়- যা এগুলোকে স্থির আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যাটারির চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

ইউরোপের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইরানের কাছে কিউডব্লিউ-১২, কিউডব্লিউ-১৮ এবং কিউডব্লিউ-১৯ সিস্টেমসহ কিউডব্লিউ সিরিজের ম্যানপ্যাড (MANPADS) বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ইইউ অবগত ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ইরান কিউডব্লিউ-১২ এবং কিউডব্লিউ-১৮ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চেষ্টা করছিল, কিন্তু একটি চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে তারা অবগত ছিল না।

কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ হলো কাঁধে বহনযোগ্য ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা নিচু দিয়ে উড়ন্ত বিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এদের গতিশীলতার কারণে সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অন্যান্য সংবেদনশীল স্থানের আশেপাশে এগুলোকে দ্রুত মোতায়েন করা যায়।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা কিউডব্লিউ-১২-কে কিউডব্লিউ-১৮ এবং কিউডব্লিউ-১৯ সহ নতুন কিউডব্লিউ সংস্করণগুলোর তুলনায় কম সক্ষম বলে মনে করেন, তবে তারা বলেন যে এই ব্যবস্থাগুলো ড্রোন এবং নিচু দিয়ে উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে স্বল্প-পাল্লার কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করতে পারে।

দুটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্র এবং একজন ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন যে, তেহরান চীনা সামরিক সরঞ্জাম এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ আরও বিচক্ষণতার সঙ্গে স্থানান্তর করতে এবং ঝুঁকি কমাতে স্থলপথ ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখেছে।

এই ক্রয় প্রক্রিয়াটি বছরের পর বছর ধরে দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদেশী সরবরাহকারীদের সঙ্গে ইরানের গোপন বৈঠক অব্যাহত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT