
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওয়াহেদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণকারী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সাদিকুল ইসলাম ভদুর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরার আমলি তৃতীয় আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।
রিমান্ডপ্রাপ্ত সাদিকুল ইসলাম ভদু দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া শেখপাড়ার শওকত আলীর ছেলে। তিনি পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল আমিন জানান, এ হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি সাদিকুল ইসলাম ভদু গত ২৮ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ১ নভেম্বর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়।
বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের আদেশের কপি পাওয়ার পর তাঁকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আগামী ৮ নভেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আসাদুজ্জামান দিলু।
রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপপরিদর্শক (সিএসআই) বিশ্বনাথ রায় ও আইনজীবী আবু সাঈদ।
এদিকে আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে সাদিকুল ইসলাম ভদু দাবি করেন, তিনি মিছিলকারীদের সঙ্গে ছিলেন, তবে শামীমকে মারধর করেননি। এ সময় তিনি নিজেকে যুবদলের নেতা বলেও পরিচয় দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে ওয়াহেদুজ্জামান সানার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেশী আবুল কাশেমের মেয়ে মোসলেমা, ছেলে হোসেন আলী এবং একই এলাকার মাসুদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা কল রেকর্ডকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে।
এর জেরে গত ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্থানীয় জামায়াত কার্যালয়ের সামনে থেকে একদল লোক শামীমের বাড়িতে হামলা চালায়। পরদিন ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুলিয়ার ডা. এমএ সবুরের ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর ওপর আবারও হামলা হয়। একই দিন পারুলিয়া থেকে মিছিল নিয়ে আসা একদল লোক সখীপুর হাসপাতালের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পুলিশ, আনসার সদস্য ও কর্তব্যরত চিকিৎসকের উপস্থিতিতেই চিকিৎসাধীন শামীমের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল জলিল বাদী হয়ে গত ১৫ অক্টোবর দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ফজলুল হক আমিনী, সাদিকুল ইসলাম ভদু, মোক্তার খান ও আসাদুল মোল্লাসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার পর ১৫ অক্টোবর রাতে মোক্তার খান, ১৬ অক্টোবর সকালে আসাদুল মোল্লা এবং ১৭ অক্টোবর ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
Leave a Reply