
পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে জেলার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র অসন্তোষ ও আলোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারি ছুটির দিনে দুই আলোচিত প্রধান সহকারীকে বদলি করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্যজনকভাবে সেই আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই এমন তেলেসমাতি কাণ্ডে পুরো স্বাস্থ্য বিভাগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কার ইশারায় এবং কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত বদল হলো—তা নিয়ে এখন চলছে নানা গুঞ্জন।
জানা গেছে, গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) সরকারি ছুটির দিনে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী দেবব্রত রায় এবং কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী আব্দুল হাকিমকে অন্যত্রে বদলি করা হয়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরদিন রোববার সকালেই তাঁদের কার্যালয়ে ডেকে সেই আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ছুটির দিনে বদলি জারির নেপথ্যে কী ছিল এবং এক দিন না যেতেই তা কেন তুলে নেওয়া হলো—তার কোনো সদুত্তর মেলা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী দেবব্রত রায়কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির গুঞ্জন রয়েছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজকর্মে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও বরাবরই তিনি বহাল তবিয়তে থেকেছেন। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বদলির আদেশ জারির পর দেবব্রত রায় দাবি করেন—তিনি বদলির বিষয়ে কিছুই জানেন না! এমন বিপরীতমুখী অবস্থান ও লুকোচুরির ঘটনায় পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে জনমনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, যদি প্রশাসনিক সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে বা নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বদলি করা হয়ে থাকে, তবে কোন মহলের চাপে ও কার অদৃশ্য ইশারায় মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হলো? জনগণের করের টাকায় চলা স্বাস্থ্যসেবাখাতে এমন খেয়ালি ও নমনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই সাধারণ মানুষ মেনে নিতে পারছে না।
এ বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য জানতে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে তিনি ‘মিটিংয়ে আছেন’ বলে লাইন কেটে দেন। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা পুনরায় ফোন করলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি। একজন দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তার এমন লুকোচুরি ও টালবাহানা বদলি বাণিজ্য কিংবা বিশেষ মহলের তদবিরের গুঞ্জনকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
স্বাস্থ্য খাতের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন অস্বচ্ছতা ও জবাবদিহিহীন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, এই আকস্মিক বদলি ও প্রত্যাহারের নেপথ্যে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অন্যথায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের শেষ ভরসাটুকুও ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।
Leave a Reply