শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা আবহমান বাংলার হাজার বছরের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য : নিতাই রায় চৌধুরী ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার চিফ অব স্টাফ বুকে তীব্র ব্যথা, হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক দেশের সব কারাগারের জন্য ৭ দফা নির্দেশনা জারি মোংলা বন্দর হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র: নৌপরিবহনমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস শনিবার, সরকারি ছুটি পাবেন না যারা ​শার্শায় দেশীয় তৈরি ওয়ান শুটার পিস্তল উদ্ধার ​ জলবায়ু ঝুঁকিতে ৯ কোটি বাস্তুচ্যুত মানুষ, তিন-চতুর্থাংশ বাংলাদেশে ভারতের পাঞ্জাবে চলন্ত ট্রেনে ভয়াবহ আগুন শিক্ষানবিশ চালকদের জন্য নতুন নির্দেশনা বিআরটিএর

দীর্ঘ ৪৪ বছরের ব্যবধানে আবারও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৫ পড়েছেন

ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সংসদ ভবনের পেছনে, স্বামীর কবরের পাশে সমাহিত হবেন। লাখো লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। এটি যেন ইতিহাসেরই সেই পুনরাবৃত্তি। ৪৪ বছর আগে একই স্থানে লাখো মানুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শেষ বিদায় জানিয়েছিলেন। আজ আবার সেই জায়গাতে নামল মানুষের ঢল।
এদিন মা বেগম খালেদা জিয়ার কোনো ব্যবহার বা কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে নিজে ক্ষমাপ্রার্থী বলে জানিয়েছেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার আগমুহূর্তে পরিবারের পক্ষ থেকে এ কথা জানান তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। এখানে যে সকল ভাই-বোনেরা উপস্থিত আছেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালে যদি আপনাদের কারও কাছ থেকে কোনো ঋণ নিয়ে থাকেন দয়া করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। আমি সেই ঋণটি পরিশোধের ব্যবস্থা করবো ইনশাআল্লাহ।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর একদল অফিসারের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে শহীদ হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। খালেদা জিয়া তখন দেশের ফার্স্টলেডি ছিলেন। চট্টগ্রাম বিএনপির দুই গ্রুপের কোন্দল মেটাতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। সার্কিট হাউসে দিনভর বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাতের দিকে সেনা অভিযানে নিহত হন রাষ্ট্রপতি। পরের দিন ২ জুন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং সংসদ ভবনের উত্তর পাশে দাফন করা হয়।
৪৪ বছর পর একই জায়গায় এবার খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বামী হারানোর পর কোনো প্রাথমিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে দলকে নির্বাচনে বিজয়ী করে রাষ্ট্রক্ষমতায় পৌঁছান। নিজের প্রজ্ঞা ও নেতৃত্বে তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন।
তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানকে নিয়ে সাধারণ জীবন কাটানো সেই গৃহবধু আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী নেত্রী হিসেবে স্মরণীয়। ১৯৮১ সালের সেই দিনে যেমন ঢাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাষ্ট্রপতির জানাজায় অংশ নিয়েছিল, ২০২৫ সালের আজও (বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লাখো লাখো মানুষ খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণ করেছেন।
খালেদা জিয়া স্বামীর রাজনৈতিক পরম্পরাকে ধারণ করে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপিকে। তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিশেষ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে চিহ্নিত হবে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তার নামাজে জানাজা দেশের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি হয়ে থাকবে।
বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রযুক্তি সহযোগীতায় BD IT SUPPORT