বিশেষ প্রতিনিধি : সাতক্ষিরায় খামারে কুচিয়া চাষ করা হয়সাদা সোনা খ্যাত রফতানিযোগ্য চিংড়ি সাতক্ষীরা জেলায় চাষ হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে চিংড়ি রফতানির পাশাপাশি সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় উৎপাদিত কুচিয়া বিদেশে রফতানি হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জে বেশ কয়েকটি কুচিয়া খামার গড়ে উঠেছে।
প্রাকৃতিকভাবে জন্মনো এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে মোটাতাজা করার পর থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চায়না, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরসহ ১৫টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে চায়নায় এর চাহিদা বেশি।
তবে খামারিরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার কুচিয়া রফতানি।
আশাশুনির উপজেলার শবদলপুরে গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে কুচিয়া মোটাতাজা করেন। পাঁচ বছর ধরে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন কুচিয়া মোটাতাজাকরণ খামার। তার খামারে ছোট বড় কয়েক হাজার কুচিয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে এসব কুচিয়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনে তা খামারে এসে পরিচর্যা করেন। ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের কুচিয়া সংগ্রহ করে দুই থেকে আড়াই মাস পরিচর্যা করার পর একেকটি কুচিয়ার ওজন হয় ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত। এরপর স্থানীয়ভাবে প্রতিকেজি কুচিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।
তিনি আরও জানান, বছরের ১২ মাসই কুচিয়া মোটাতাজা করেন। এতে তার খামারের ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ হয়। তবে সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে উপকূলীয় এলাকার কুচিয়া রফতানি আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।
বিক্রির জন্য রাখা কুচিয়া সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের উজিরপুর গ্রামের আব্দুল বারী গাজী বলেন, এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে খামারে মোটাতাজা করছেন। কুচিয়ার জন্য তারা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন কেচো, ছোট তেলাপোয়া মাছ ও চিংড়ি মাছ।
এদিকে আশাশুনি এলাকার গৃহবধূ ফুলজান বিবি ও ছন্দা রানী জানান, তারা সংসারের কাজকর্ম করেও প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করছেন কুচিয়ার খামার থেকে।
উন্নয়ন সংস্থা নামে খুলনাভিত্তিক একটি এনজিও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় কুচিয়া মোটাতাজাকরণে খামারিদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহযোগিতা করছে।
আশাশুনি উপজেলায় উন্নয়ন সংস্থা দায়িত্বে থাকা মৎস্য কর্মকর্তা এই প্রতিবেদক বলেন, ‘পিকেএসএসের আর্থিক সহায়তায় ও লিফট কর্মসূচির আওতায় আশাশুনিতে প্রায় ২০০টি কুচিয়া মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে তোলা হয়েছে। এই এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে এসব খামারে পরিচর্যা করার পর তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার উত্তরা এলাকার কিছু রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চায়না, ভিয়েতনাম, ও সিঙ্গাপুরসহ প্রায় ১৫টি দেশে রফতানি করছে।’
আশাশুনি উপজেলার উজিরপুর বাজারের পাইকারি কুচিয়া ব্যবসার প্রতিষ্ঠান আসিফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুস সালাম জানান, খামারিদের কাছ থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে তা ঢাকার উত্তরা এলাকার কয়েকটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন। প্রতি মাসে তিনি ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন কুচিয়া উত্তরায় সরবরাহ করেন।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়ি গোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিদাস মন্ডল জানান, তিনি গত বছর এক বিঘা জমিতে কুচিয়া চাষ করেছিলেন তা থেকে তার ৩৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে এবার হরিদাস মন্ডল তিন বিঘা জমিতে কুচিয়া চাষ করছেন তার আশা এর থেকে এবার এক লক্ষ টাকা লাভ করবেন, হরিদাস মন্ডল আরো জানান তার এই কুচি আছে দেখে ইউনিয়নের আব্দুল খালেক মিজানুর রহমান মনসুর আলী আলমগীর হোসেন মন্তেশ ঢালী আনসার আলী মানিক মন্ডল তারাপদ মন্ডল কিনারাম মন্ডল মজিদ মিস্ত্রি শামসুর রহমান মনাহার গাজী, তাইজুল ইসলাম রবিউল ইসলাম কামরুজ্জামান কিশোর মন্ডল তাপস মন্ডল নগেন মন্ডল ভবতোষ মন্ডল মমিন গাজী এনামুল গাজী মোহাম্মদ আলী রাজ্জাক গাজী আমির হোসেন আইয়ুব আলী। আমিনুর রহমান সিদ্দিক সরদার কাশেম গাজী রেজাউল করিম আব্দুল মাজেদ মজিবর রহমান বিষ্ণুপ মন্ডল তারক মন্ডল মশিউর রহমান হাবিবুর রহমান জামাল হোসেন শওকত আলী আনসার আলী নিজামুদ্দিন আদর আলী মো মোক্তার হোসেন আদম আলী সহ অনেকেই কুচিয়া চাষ শুরু করেছেন ।সাদা সোনা খ্যাত রফতানিযোগ্য চিংড়ি সাতক্ষীরা জেলায় চাষ হয়। তবে গত কয়েক বছর ধরে চিংড়ি রফতানির পাশাপাশি সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় উৎপাদিত কুচিয়া বিদেশে রফতানি হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জে বেশ কয়েকটি কুচিয়া খামার গড়ে উঠেছে।
প্রাকৃতিকভাবে জন্মনো এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে মোটাতাজা করার পর থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চায়না, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরসহ ১৫টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে চায়নায় এর চাহিদা বেশি।
তবে খামারিরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে সাতক্ষীরার কুচিয়া রফতানি।
আশাশুনির উপজেলার শবদলপুরে গ্রামের নিতাই সরকার বলেন, স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে বাড়িতে কুচিয়া মোটাতাজা করেন। পাঁচ বছর ধরে নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন কুচিয়া মোটাতাজাকরণ খামার। তার খামারে ছোট বড় কয়েক হাজার কুচিয়া রয়েছে।
তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে এসব কুচিয়া ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে কিনে তা খামারে এসে পরিচর্যা করেন। ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ওজনের কুচিয়া সংগ্রহ করে দুই থেকে আড়াই মাস পরিচর্যা করার পর একেকটি কুচিয়ার ওজন হয় ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত। এরপর স্থানীয়ভাবে প্রতিকেজি কুচিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন।
তিনি আরও জানান, বছরের ১২ মাসই কুচিয়া মোটাতাজা করেন। এতে তার খামারের ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ হয়। তবে সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে উপকূলীয় এলাকার কুচিয়া রফতানি আরও সম্ভাবনাময় হয়ে উঠবে বলে জানান তিনি।
বিক্রির জন্য রাখা কুচিয়া
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের উজিরপুর গ্রামের আব্দুল বারী গাজী বলেন, এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে খামারে মোটাতাজা করছেন। কুচিয়ার জন্য তারা খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করছেন কেচো, ছোট তেলাপোয়া মাছ ও চিংড়ি মাছ।
এদিকে আশাশুনি এলাকার গৃহবধূ ফুলজান বিবি ও ছন্দা রানী জানান, তারা সংসারের কাজকর্ম করেও প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করছেন কুচিয়ার খামার থেকে।
উন্নয়ন সংস্থা নামে খুলনাভিত্তিক একটি এনজিও সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় কুচিয়া মোটাতাজাকরণে খামারিদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহযোগিতা করছে।
আশাশুনি উপজেলায় উন্নয়ন সংস্থা দায়িত্বে থাকা মৎস্য কর্মকর্তা তানভীর রেজা বলেন, ‘পিকেএসএসের আর্থিক সহায়তায় ও লিফট কর্মসূচির আওতায় আশাশুনিতে প্রায় ২০০টি কুচিয়া মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে তোলা হয়েছে। এই এলাকার বিভিন্ন মৎস্যঘের থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে এসব খামারে পরিচর্যা করার পর তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার উত্তরা এলাকার কিছু রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান সাতক্ষীরা অঞ্চল থেকে এসব কুচিয়া সংগ্রহ করে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, চায়না, ভিয়েতনাম, ও সিঙ্গাপুরসহ প্রায় ১৫টি দেশে রফতানি করছে।’
আশাশুনি উপজেলার উজিরপুর বাজারের পাইকারি কুচিয়া ব্যবসার প্রতিষ্ঠান আসিফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুস সালাম জানান, খামারিদের কাছ থেকে কুচিয়া সংগ্রহ করে তা ঢাকার উত্তরা এলাকার কয়েকটি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন। প্রতি মাসে তিনি ২০ থেকে ২৫ মেট্রিক টন কুচিয়া উত্তরায় সরবরাহ করেন।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো আনিসুর রহমান বলেন, ‘শ্যামনগরে সরকারিভাবে কুচিয়ার দুটি প্রদর্শনী খামার গড়ে তোলা হয়েছিল। চিংড়ি ও কাকড়ার পর কুচিয়া রফতানিতে সাতক্ষীরা বেশ সম্ভাবনাময়। কিন্তু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা কম।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত অর্থবছরে কাকড়া মোটাতাজাকরণ একটি প্রকল্প সাতক্ষীরায় ছিল। সেটি গত জুনে শেষ হয়ে গেছে। তবে আগামীতে কুচিয়া চাষের ওপর প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনিসুর আরোরহমান বলেন, ‘শ্যামনগরে সরকারিভাবে কুচিয়ার দুটি প্রদর্শনী খামার গড়ে তোলা হয়েছিল। চিংড়ি ও কাকড়ার পর কুচিয়া রফতানিতে সাতক্ষীরা বেশ সম্ভাবনাময়। কিন্তু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা কম।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত অর্থবছরে কাকড়া মোটাতাজাকরণ একটি প্রকল্প সাতক্ষীরায় ছিল। সেটি গত জুনে শেষ হয়ে গেছে। তবে আগামীতে কুচিয়া চাষের ওপর প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ জানান, সাতক্ষীরা জেলার মানুষের জন্য চিংড়ি চাষ কাঁকড়া চাষ সবজি চাষ কুচি আসাস কুল চাষ আম চাষ সব ধরনের চাষাবাদে সাতক্ষীরার মানুষ দৈনন্দিন জীবন কাটাচ্ছে, তিনি আরো জানান সাতক্ষীরা জেলা বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি সম্ভাবনার জেলা এই জেলা থেকে সরকার বিভিন্ন খাতে মোটা অংকের রাজস্ব অর্জন করে থাকে আমরা প্রতিটা চাষীকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজখবর নিয়ে থাকিএবং তাদেরকে সরকারি আর্থিক সহতা সহ যাবতীয় সহতা এবং পরামর্শ দিয়ে আসছি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com