ডেস্ক রিপোর্ট : ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। দিল্লি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের উত্তেজনা চায় না।
ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি নেটওয়ার্ক ১৮-এর গ্রুপ এডিটর-ইন-চিফ রাহুল যোশীর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারে বিহার বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং দেশের প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা-সহ বিভিন্ন বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি।
ভারত প্রধানত পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কাজ করত, ভারতের সমস্যা ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে। কিন্তু গালওয়ানের ঘটনার পর চীনের সঙ্গেও ভারতের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলো। এখন বাংলাদেশ। তাহলে কি এমন বলা যায় যে, তিন দিকেই এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে? ভারতের জন্য কি তিনটি ফ্রন্ট খুলে গেছে? ভারত কীভাবে এর মোকাবিলা করবে?
এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামনে যত সমস্যা বা চ্যালেঞ্জই আসুক না কেন...সেই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা ভারতের আছে। আমরা প্রতিটি কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারি এবং সমাধান খুঁজে বের করতে পারি। তবে আমরা এমন মানুষ যারা শান্তিতে বিশ্বাসী, আমরা অস্থিরতা চাই না। যদিও এর মানে এই নয় যে ভারত ভিতু। যদি ভারতের সার্বভৌমত্বের ক্ষতি হয়, তবে ভারত তার কঠিন জবাব দেবে। আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও পরিস্থিতি শান্ত এবং স্বাভাবিক থাকা উচিত, এটাই আমাদের ভাবনা। আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর কথা বলতে গেলে, আমরা তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমাদের নেতা অটল-জি (সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি) বারবার বলতেন, আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং মনে রাখতে হবে যে জীবনে আপনি বন্ধু পরিবর্তন করতে পারেন, কিন্তু আপনি কখনো আপনার প্রতিবেশীদের পরিবর্তন করতে পারেন না।’
প্রতিবেশী দেশ নিয়ে ভারতের অবস্থান সম্পর্কিত প্রশ্নে রাজনাথ সিং বলেন, চীনের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা হয়েছে। তিনি চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘চীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আগ্রহী এবং সামরিক স্তরের বৈঠক চালিয়ে যেতে চায়।’
আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মধ্যে ডুরান্ড লাইন নিয়ে চলমান বিরোধকে ভারত তাদের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে মনে করে উল্লেখ করে রাজনাথ সিং বলেন, ভারত তাদের মধ্যকার আলোচনায় হস্তক্ষেপ করতে চায় না। ভারত এই সংঘাতে উসকানি দিচ্ছে—পাকিস্তানের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও উড়িয়ে দেন তিনি।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকা সফরের সময় এক পাকিস্তানি জেনারেলকে একটি মানচিত্রে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দেখিয়েছেন বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। যদিও বাংলাদেশ সরকার এটি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে রাজনাথ সিং বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’
তিন দিকে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমেই বৈরী ভাবাপন্ন হয়ে ওঠা নিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ‘ভারত সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে। ভারত শান্তি চায়, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হলে ভারত কড়া জবাব দেবে।’
বিহার নির্বাচন
বিহারের নির্বাচনী পরিবেশ প্রসঙ্গে রাজনাথ সিং জানান, জনসভাগুলোতে ভোটারদের সাড়া দেখে তিনি নিশ্চিত যে রাজ্যে এনডিএ সরকার গঠিত হবে। তাঁর অনুমান, এনডিএ জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৬০ টির বেশি আসন) পেতে পারে।
তিনি স্পষ্ট করে দেন, যেহেতু এই নির্বাচন নিতীশ কুমারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তাই তিনিই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন—এটা স্বাভাবিক। তবে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে ভবিষ্যতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনাথ সিং দাবি করেন, নিতীশ কুমারের শাসনে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকায় নারীরা খুশি। তিনি মনে করেন, ‘জীবিকা দিদি’ প্রকল্পের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং মদ নিষিদ্ধকরণ নারীদের ভোটকে এনডিএ-র দিকে টানতে প্রধান ভূমিকা রাখবে। মদ নিষিদ্ধে রাজস্ব ক্ষতির প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, সামাজিক কুসংস্কার দূর করার জন্য সামান্য রাজস্ব ক্ষতি গ্রহণযোগ্য।
বিহার নির্বাচনে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) নতুন দলকে ‘নগণ্য ফ্যাক্টর’ হিসেবে অভিহিত করে রাজনাথ সিং দাবি করেন, এই দল কোনো আসন জিততে পারবে না, এরা শুধু ভোট কাটার জন্য মাঠে নেমেছে।
‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রসঙ্গে রাজনাথ সিং বলেন, ভারত কখনো যুদ্ধ চায় না। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ আসার পরই এই অভিযান স্থগিত করা হয়, কোনো আন্তর্জাতিক চাপের কারণে নয়।
বিজেপির পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে রাজনাথ সিং বলেন, বিহার নির্বাচনের পরই দলের পরবর্তী সভাপতি ঘোষণা করা হবে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com