পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ২নং কপিলমুনি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিরাশী গ্রামের কামাল গাজীর স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৩৫) দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্থ অভাবে বিনা চিকিৎসায় প্রহর গুনছেন। স্বামী কামাল গাজী একজন দিনমজুর। সে উক্ত ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক। সারাদিন দিনমজুরের কাজ করে একটা সময় সংসার চালাতো। কিন্তু বর্তমানে তিনিও কোনরুপ ভারি কাজ করতে পারে না। কারন সে নিজেও একজন অপারেশনের রোগী। লিভারের সমস্যা জনিত কারণে তিনিও অপারেশন হয়েছে কয়েকবার। তার সংসারে মোট ৪ সদস্যের মধ্যে বড় মেয়েকে অনেক কষ্ট করে বিয়ে দেন। বর্তমানে তার সংসারে ১৬ বছরের একটু পুত্র সন্তান নিয়ে তিন সদস্যের বসবাস। জায়গা জমি বলতে বর্তমানে কিছুই নাই তার। তিন কাটা জমি থাকলেও নিজের ও স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য তা বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে সে একটুখানি জায়গার উপর পরিবারের সকলকে নিয়ে অতি কষ্টে জীবনযাপন করছে। এছাড়াও কোনরকমে মুখে অন্য যোগানোর জন্য বাড়ির পাশে সরকারি রাস্তার সাইডে একটি টং দোকান করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছে। এছাড়াও মাঝেমধ্যে স্ত্রী সন্তানদের মুখে আহার ও স্ত্রীর চিকিৎসা সহ নিজের চিকিৎসা খরচের চাহিদা মিটাতে অসুস্থ অবস্থায় তিনি যান মাঝে মধ্যে মানিক গান গাইতে।
এদিকে তার এ সামান্য আয়ে পারছে না তার পরিবারে মুখে অন্ন তুলে দিতে, সেখানে স্ত্রীর দুইটি কিডনি একবারে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যেন এই পরিবারটিতে নেমে এসেছে বিপদের এক কালো ছায়া! বর্তমানে স্ত্রীকে বাঁচাতে হলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। যেখানে তার সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেখানে ১০ লক্ষ টাকা পাবে কোথায় এই পরিবারটি! তাই আল্লাহর উপর ভরসা করেই দীর্ঘদিন যাবত বিনা চিকিৎসায় তার স্ত্রী মৃত্যুর প্রহর গুনছে।
অন্যদিকে তার পরিবারের এমন পরিস্থিতি জানতে পারে উক্ত ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য রাজিয়া সুলতানা। তখন এই পরিবারটির এমন পরিস্থিতির কথা ইউপি সদস্য রাজিয়া সুলতানা কপিলমুনি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ আলী মোড়লকে জানান। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার কথা শুনে ইউপি সদস্য রাজিয়া সুলতানাকে সাথে নিয়ে বুধবার বিকেলে ছুটে যান দুঃস্থ অসহায় গৃহবধূ তাসলিমাকে দেখতে। সেখান গিয়ে মানবিক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার চিকিৎসার জন্য কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এবং পরিষদের পক্ষ থেকে আরও কিছু দেয়ার আসস্থ করেন।
এ ব্যাপারে কপিলমুনি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনুছ আলী মোড়ল জানান, খবর পেয়ে আমি সেই পরিবারে পৌছাই এবং কিছু আর্থিক সহায়তা প্রদান করি। দেখি পরিষদের পক্ষ থেকে আরও কিছু করা যায় কিনা। তিনি আরও বলেন, আমার ইউনিয়নের সকল গরিব অসহায় ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য কিছু করতে পারাটাই আমার মূল লক্ষ্য। এছাড়াও তিনি গৃহবধূ তাসলিমাকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com