পাইকগাছা প্রতিনিধি : দিগন্ত বিস্তৃত সবুজের সমারোহ, কোথাও থোড় শেষে ফুল দেখা যায়। কোথাও দুধ দানার পর সদ্য সোনালী বর্ণ ধারণ করেছে রোপা আমন ধান। আগাম জাতের ধানের ক্ষেত সোনালী হয়ে ধানের ভারে নুয়ে পড়েছে, যা আগামী দুই সপ্তাহ পর কাটা শুরু হবে কৃষি বিভাগ আশা করছে। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা সহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে চড়াই উতরাই পেরিয়ে জীবন মানের উন্নয়ন কৃষকরা রোপা আমনের আবাদ করছে। লক্ষ্যমাত্রা ১৫ হাজার ৬ শত হেক্টর থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব কাটিয়ে চলতি মৌসুমে উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নে ১৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা যায় অতি বৃষ্টির কারণে আমন ক্ষেত প্লাবিত হওয়ায় সব জমিতে আবাদ করতে পারেনি কৃষকেরা। আমন ক্ষেতের উঁচু জমির ৩০ ভাগ আমন ধান পুষ্ট হয়েছে আর ৭০ ভাগ নিচু ও মৎস্য লিজ ঘেরের আমন ক্ষেতের ধানে শতকারা কাইচ থোড় ২০%, থোড় ৩৫ %, ফুল এসেছে ১৬%, দুধ এসেছে ১২%, দানা বেঁধেছে ০৬%, পাকা ৫%, কর্তন ০৬% এবং ফলন ৪.৫% এমন তথ্য জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনিরুল হুদা। তবে উচু ক্ষেতের ধান আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের পরে এসব ক্ষেতের ধান কাটার উপযোগী হবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। সরজমিনে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা মোকাবেলা করে আমন আবাদে সফলতা পেয়েছে কৃষকরা। অতিবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ার পরও পাইকগাছায় আমন ধানের ভালো ফসল হয়েছে। ধানের কাঁচা শীষ দেখে আনন্দে বুক ভরে উঠে কৃষকের মন। দিগন্ত জোড়া সবুজ ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো বিকশিত করে তুলেছে। তবে অন্যদিকে ঝড় ও বৈরী আবহাওয়ায় চাষীরা শঙ্কিত। তারা জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন ও অবৈধ নেটপাটা, বাঁধ অপসারণের দাবি জানান। ক্ষেত প্লাবিত হওয়ায় নাবি আবাদ করতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অন্য এলাকা থেকে উপকূল এলাকায় এক মাস পরে কৃষি কাজের পরিবেশ তৈরি হয়। আবহাওয়া জনিত কারণ ও মৎস্য লিজ ঘের গুলোতে দেরিতে আমনের আবাদ করা হয়। সে জন্য আমন ধান কাটাও দেরিতে শুরু হয়। উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের আমেরপুর ব্লকের শংকর বিশ্বাস ১০ বিঘা এবং সনৎ সরদার ১৪ বিঘা আমনের আবাদ করেছে। তারা বলেন, অতি বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার মধ্যেও অক্লান্ত পরিশ্রম ও কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় এবার আমনের আবাদ ভালো হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ায় ফসল ঘরে তুলতে না পারা পর্যন্ত শংকা কাটছে না। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন দৈনিক জন্মভূমি'র এ প্রতিনিধিকে জানান, আমনের ফলন ভাল হয়েছে। অতিবৃষ্টি, জলাবদ্ধতা, চারার বয়স বেশি সহ বিবিধ কারণে কৃষকদের আমন আবাদ শুরু করতে কিছুটা দেরি হলেও পরে সেটা কৃষকরা পুষিয়ে নিয়েছেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না দেখা দিলে আমন ধানের ভালো ফলন আশাকরছি। ছাড়িয়ে যাবে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা। পাশাপাশি তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ খাল খননের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com