ডেস্ক রিপোর্ট : ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বিষাক্ত বাতাসের কারণে সেখানকার মুঘল আমলের ঐতিহাসিক দূর্গ লালকেল্লা কালো হয়ে যাচ্ছে। এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য।
এতে বলা হয়েছে, মারাত্মক বায়ুদূষণের কারণে লালকেল্লার দেয়ালে ‘কালো আস্তরণ’ তৈরি হয়েছে। এমনকি লালকেল্লার লাল বেলেপাথরের দেয়ালে যে কালো আস্তরণ জমছে, সে বিষয়ে সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনার সূক্ষ্ম খোদাই ও নকশাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভারতের রাজধানী দিল্লির ভয়াবহ বায়ুদূষণের কারণে লালকেল্লার দেয়ালে কালো আস্তরণ জমতে শুরু করেছে। শহরের অন্যতম ঐতিহাসিক মুঘল আমলের এই স্থাপনায় দূষণের প্রভাব নিয়ে করা এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষকরা জানান, লালকেল্লার লাল বেলেপাথরের দেয়ালে বাতাসের দূষক কণার সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তৈরি হওয়া এই আস্তরণ ০.০৫ মিলিমিটার থেকে ০.৫ মিলিমিটার পর্যন্ত পুরু হয়েছে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি দেয়ালের নকশা ও খোদাই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
লালকেল্লার ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব নিয়ে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ গবেষণা।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর একটি হচ্ছে দিল্লি এবং শহরটি তার ভয়াবহ বায়ুদূষণের জন্য প্রায়ই শিরোনামে আসে, বিশেষ করে শীতকালে। সংরক্ষণবিদরা আগেই সতর্ক করেছিলেন, রাজধানীসহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দূষণের জেরে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, বায়ু ও পানিদূষণের কারণে সাদা মার্বেলে তৈরি ১৭ শতকের বিশ্বখ্যাত সমাধি তাজমহল হলুদ ও সবুজাভ বাদামি রঙ ধারণ করেছে। আদালত তখন উত্তর প্রদেশ সরকারকে সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিল।
বিবিসি বলছে, লালকেল্লা নিয়ে করা গবেষণাটি ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারত ও ইতালির গবেষকরা পরিচালনা করেন। এটি চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত হয় আন্তর্জাতিক জার্নাল হেরিটেজ-এ।
মুঘল সম্রাট শাহজাহান নির্মিত লালকেল্লা দিল্লির অন্যতম প্রতীকী স্থাপনা এবং জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। ১৯৪৭ সালের ১৬ আগস্ট স্বাধীনতার পরদিন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এখানেই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর থেকে স্বাধীনতা দিবসে প্রতি বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লার প্রাচীর থেকে ভাষণ দেন।
গবেষণার সময় গবেষকরা ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দিল্লির বায়ুদূষণ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এরপর তারা লালকেল্লার বিভিন্ন দেয়াল থেকে ওই কালো আস্তরণ সংগ্রহ করে এর উপাদান পরীক্ষা করেন।
তারা দেখেন, বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও অন্যান্য দূষক পদার্থ দেয়ালে জমে এই কালো স্তর তৈরি করেছে এবং তা খিলান, গম্বুজ ও সূক্ষ্ম পাথরের নকশাসহ স্থাপনার অন্যান্য অংশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। গবেষণায় দেয়ালে ফোস্কা ও খোসা ওঠার মতো ক্ষতির প্রমাণও পাওয়া গেছে।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, “পিএম ২.৫ এবং পিএম ১০ ধূলিকণা দূষণের প্রধান উৎস। এগুলো বাতাসে ভেসে থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেয়ালে জমে কালচে রং ও দাগ তৈরি করে।”
গবেষকরা সতর্ক করে বলেন, কালো আস্তরণ তৈরি একটি ধীর প্রক্রিয়া। শুরুতে এটি পাতলা স্তর আকারে থাকে, যা সরানো সম্ভব। তবে সময় বাড়লে এটি আরও পুরু হয়ে যায় এবং স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে।
গবেষণায় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, দ্রুত সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলোতে বিশেষ সুরক্ষা উপাদান বা সিলান্ট ব্যবহার করলে কালো আস্তরণ তৈরি ধীর করা বা ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com