দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার দাকোপে সরকারি খাস খাল ও জলাশয়ে এবং তার শাখা প্রশাখা দখল করে অবৈধ দখলদাররা গড়ে তুলছেন বসত বাড়ি, দোকান ঘরসহ বিভিন্ন কাচা পাকা স্থাপনা। দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধ দখলের রাম রাজত্ব চলে আসলেও যেন দেখার কেউ নেই। আর সদ্য গজিয়ে ওঠা তথাকথিত কতিপয় নেতা আর্থিক চুক্তিতে বিভিন্ন দোহাই দিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মানে দখলদারদের সহযোগিতা করছেন বলে এলাকায় ব্যাপক গুণজন রয়েছে।
সরেজমিনে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবন উপকূল ঘেঁষা এ উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হচেছ অসংখ্য নদ নদী। এক সময় সমগ্র এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যেত আর ভাটায় জেগে উঠতো। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হতো। মানুষের এই সংকট থেকে রক্ষা করতে স্বাধীনতা পূর্ববর্তী থেকে শুরু করে স্বাধীনতা পরবর্তী উপজেলা জুড়ে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় সীমানা প্রাচীরের মতো ওয়াপদা বেড়িবাঁধ নির্মান করেন। ওয়াপদার বাঁধ নির্মিত হওয়ায় মাঙ্গা, ঝপঝপিয়া, কাজিবাছা, পশুর, ভদ্রা, ঢাকী ও শিবসা প্রভৃতি নদীর শাখা প্রশাখা খালে এবং জলাশয়ে পরিনত হয়। আর স্থানীয়ভাবে খাল ও জলাশয়েগুলো বিভিন্ন নাম ধারণ করে প্রবাহিত হয়ে আসছে। ওয়াপদা বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পানি সরবরাহে সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থাপন করেন প্রায় ৫০টি স্লইচ গেট। যা দিয়ে ওই সকল খালের পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু গত তিন দশকে রাজনৈতিক, সামাজিক লাঠিয়াল বাহিনী ও বাহু শক্তির প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রায় ২২৮টি খাল ও জলাশয়ে এবং তার শাখা প্রশাখা প্রতিনিয়ত দখল হয়ে আসছে। যার মহোৎসব আজও অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে জলমহল ১১৪টি, ২০ একরের নীচে ৮৬টি ও ২০ একরের উর্দ্ধে ২৮টি রয়েছে বলে উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে বেঁচে থাকা উপজেলার বাজুয়া, চড়া, আচাঁভূয়া ও ভদ্রা নদী প্রভৃতি খালগুলো আজও অস্তিত্বের সংকট রয়েছে। সরকারের নিকট থেকে নাম মাত্র ইজারা গ্রহন করে অথবা গায়ের জোরে উক্ত খালগুলো দখল করে অবৈধ বাঁধ, নেটপাটা এবং মাটি দিয়ে পাড় ভরাট করে ভূমির পরিবর্তনসহ খালগুলোর গতি পথে বাধার সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতাসীন স্থানীয় তথাকথিত নেতার ছত্রছায়ায় খালের দুই পাড় বেঁধে তার উপর অবৈধ দখলদাররা গড়ে তুলেছেন বসতঘর, দোকানপাট, স্ব-মিলসহ নানা স্থাপনা। এমনকি বিশাল পাকা প্রচীরও তৈরি করার নজির রয়েছে। বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এসব সম্পত্তি যৌথ বাহিণীর উদ্যোগে উদ্ধারের চেষ্ঠা চালিয়ে অনেক সম্পত্তি উদ্ধার হলেও পূনরায় আবার এসব সম্পত্তি ওই দখলদারদের দখলে। দিন দিন এর সংকট উত্তরোত্তর বাড়ছে বলে একাধিক জনপ্রতিনিধি অভিমত ব্যক্ত করেন। এতে শুকনো মৌসুমে সেচ সংকটে পড়ে কৃষি কাজে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে ফলে কৃষক হচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্থ এবং চলতি বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশংকা করছেন এলাকাবাসি। এবিষয়ে বাজুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মানষ কুমার রায় জানান, সরকারি খাস খাল ও জলাশয়ে এবং তার শাখা প্রশাখা দখল করে অবৈধ দখলদাররা প্রতিনিয়ত গড়ে তুলছেন বসত বাড়ি, দোকান ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়াও সরকারী পেরী ফেরী, ওয়াপদা রাস্তার দুই পাশের ফুট পথ দখল করে অনুরুপ তৈরি করছেন বিভিন্ন স্থাপনা। দীর্ঘদিন যাবৎ এই অবৈধ দখলের রাম রাজত্ব চলে আসছে। এসকল অবৈধ দখলদার ও স্থাপনা উচ্ছেদে আমি বার বার উপজেলা মাসিক সভায় আলোচনা করেছি। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন কি কারণে ব্যবস্থা নেয় না তা আমার জানা নেই। একই অভিমত ব্যক্ত করেন বানিশান্ত ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব রায়, লাউডোব ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান নিহার মন্ডল, পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান সাব্বির আহম্মেদ শেখসহ আরো অনেকে।
এব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সেবগাতুল্যাহ কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং যে সব সরকারি জায়গায় ছোট ছোট স্থাপনা নির্মান পর্যায়ে আছে সেগুলো আমি জানার পর সরিয়ে দিচ্ছি। আর পাকা স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ম্যাজিষ্টেট নিয়োগের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারিদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া আছে। ইতি মধ্যে একটি অবৈধ দখল উচ্ছেদ করার প্রক্রিয়াধিন আছে। আর পুরাতন দখলদারদের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে দখল মুক্ত করা হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com