ডুমুরিয়া প্রতিনিধি: খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম ময়নাপুর। একদিকে খুলনার ডুমুরিয়া, অন্যদিকে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুরের সীমান্তঘেঁষা এই গ্রামে বসবাস প্রায় ৩৫টি পরিবারের। অধিকাংশই সনাতন ধর্মাবলম্বী। অথচ শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থান—মৌলিক নাগরিক সুবিধার প্রায় সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে গ্রামটি। যেন উন্নয়নের মানচিত্রে থেকেও বাস্তবে বিচ্ছিন্ন এক জনপদ।
গ্রাম থেকে কপালিয়া বাজার প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এবং ডুমুরিয়া উপজেলা সদর প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামে কোনো স্কুল, দোকান কিংবা চিকিৎসাকেন্দ্র নেই। একসময় থাকা ময়নাপুর ২০৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও শিক্ষার্থী সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে ২০২৩ইং সালে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে; স্থানীয়রা সেটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জিত বলেন, “আমাদের গ্রামে ভালো কিছু না থাকলেও শান্তি আছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যায় পড়তে হয়।”
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শংকর মণ্ডলের ভাষ্য, গ্রামের প্রায় ৩৫ পরিবারের মধ্যে ১৫টি পরিবার দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। কাজের সন্ধানে প্রতিদিন তাঁদের দূরের গ্রাম ও বাজারে ছুটতে হয়। চিকিৎসা কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেও যেতে হয় কপালিয়া ও কাটাখালী বাজারে। তাঁর অভিযোগ, ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাঁরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পান না। এর ওপর বিল খোকসের বিলে প্রায় পাঁচ বছর ধরে ধান উৎপাদন না হওয়ায় কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোও সংকটে রয়েছে।
ময়নাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক তাপস মণ্ডলের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁর সময়কার প্রভাব ও বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা অন্য বিদ্যালয়ে চলে যায়। একপর্যায়ে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী থাকায় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। তবে তাপস মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষকতা জীবনে বিদ্যালয় পরিচালনায় যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। বিদ্যালয়টি কেন বন্ধ হয়েছে, তা তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মহসিন গাজী বলেন, চলাচলে কিছুটা সমস্যা থাকায় নিয়মিত খোঁজ রাখা সম্ভব হয়নি। তবে এখন থেকে গ্রামবাসীর খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করবেন।
ধামালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম জহুরুল হক বলেন, তিনি নিয়মিত গ্রামটির খোঁজখবর রাখেন এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—৩৫টি পরিবার নিয়ে গড়ে ওঠা একটি গ্রামে শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগের ন্যূনতম সুযোগ নিশ্চিত হবে কবে? উন্নয়নের আলো কি কখনো পৌঁছাবে ময়নাপুরের প্রতিটি ঘরে?
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com