টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জনবল ঘাটতি এখন তীব্র আকার ধারণ করেছে। অফিসে বর্তমানে একজন কর্মকর্তা ছাড়া আর কোনো নিয়মিত কর্মচারী না থাকায় নারী উন্নয়ন, ভাতা, প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপকারভোগীদের অভিযোগ অফিসে গিয়েও প্রায়ই তালা মারা অফিস থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে।
অফিস সূত্রে জানা যায়, দপ্তরের একমাত্র এমএলএসএস আমিনুল ইসলাম গত ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ এবং অফিস সহকারী রশিদ গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বদলি হয়ে গেলে দুটি পদই শূন্য হয়ে যায়। এরপর থেকে মোকসেদপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের অফিস সহকারী প্রভাতী রানীকে সপ্তাহে দুইদিন অতিরিক্ত দায়িত্বে পাঠানো হলেও কোনোভাবেই কাজের গতি বাড়েনি।
বর্তমানে টুঙ্গিপাড়ার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শ্রীময়ী বাগচী দপ্তরটি একাই পরিচালনা করছেন। তিনি ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল যোগদান করেন এবং দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে টুঙ্গিপাড়ার পাশাপাশি কোটালীপাড়া উপজেলায়ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সপ্তাহের বেশ কিছুদিন তাকে কোটালীপাড়ায় অবস্থান করতে হয়। সেই সময় টুঙ্গিপাড়ার দপ্তরে উপকারভোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যান।
তালা খোলা থেকে ফিল্ডে কাজ সব এখন আমার একা করতে হয়
জনবল সংকটের বিষয়ে শ্রীময়ী বাগচী বলেন,
আমি এই অফিসে একাই কাজ করি। এমএলএসএস ও অফিস সহকারী দুজনই বদলি হয়ে গেছে। সপ্তাহে দুইদিন অতিরিক্ত জনবল পেলেও তাতে কাজের চাপ কমে না। কোটালীপাড়ায় অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকায় যেদিন সেখানে যেতে হয়, সেদিন উপকারভোগীরা আমাকে পায় না। তালা খোলা থেকে তালা দেওয়া, কাগজপত্র, মাঠপর্যায়ের কাজ সবই এখন আমার একা করতে হয়। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব কষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (ডিডি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি)-স্যার কে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
উপকারভোগীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে
পাটগাতি মধ্যপাড়ার উপকারভোগী সালমা বেগম বলেন, অনেক সময় অফিসে এসে কর্মকর্তাকে পাই না। তিনি কোটালীপাড়ায় থাকেন। যেদিন থাকেন, খুব সহযোগিতা করেন কিন্তু কাজের দেরি হয়।
আরেক উপকারভোগী রোকেয়া বেগম বলেন, প্রায় ১০ দিন ধরে আবেদন জমা দিতে অফিসে আসছি। অনেক সময় এসে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে। শুনি ম্যাডাম কোটালীপাড়ায়, আর এখানে আর কেউ থাকে না। দ্রুত নতুন জনবল দিলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হবে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন,
“মহিলা বিষয়ক দপ্তরে জনবল সংকট রয়েছে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এই সমস্যা সমাধান হবে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দপ্তরের নারী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, ভাতা বিতরণ, উদ্যোক্তা সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম জনবল স্বল্পতায় ধীরগতিতে চলছে যার ফলে নারী উপকারভোগীরা নানা সেবাবঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com