ডেস্ক রিপোর্ট : চীনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশে ফিরেই ইরান ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন। তিনি বিদ্যমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে সামরিক শক্তির প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ জন্য তার শীর্ষ সহযোগীরা (পেন্টাগন কর্মকর্তারা) ইরানে বড় পরিসরে বিমান হামলা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী সপ্তাহে সম্ভাব্য হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
শনিবার (১৬ মে) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন দেশ বিশ্বের অন্যতম সংর্কীণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে রাজনৈতিক সাফল্য দেখানোর সুযোগ করে দিতে একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্প এখনো নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
বেইজিং থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি প্রস্তাবটি দেখেছি। প্রথম বাক্যটাই পছন্দ হয়নি, তাই আমি সেটি বাতিল করেছি।’ এ সময় তিনি ইরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনার পরপরই ইরান ইস্যুতে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেল। চীন তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর অন্যতম নির্ভরশীল রাষ্ট্র।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট শি-র সঙ্গে ইরান নিয়ে আলোচনার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এও দাবি করেছেন যে, তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বেইজিংয়ের কাছে অনুরোধ করেননি।
বেইজিং সফরকালে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম সহায়তা করা থেকে বিরত থাকতে সম্মত হয়েছে প্রেসিডেন্ট শি। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালি কোনো শর্ত ছাড়াই পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারেও নাকি একমত হয়েছেন। যদিও চীন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে তাদের অবস্থান এখনও অস্পষ্ট।
পর্দার আড়ালে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সব ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর সামরিক পরিকল্পনাকারীরা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ পুনরায় শুরু করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্ভবত নতুন অভিযানিক নামে হতে পারে।
আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যুদ্ধবিরতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বড় যৌথ প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে এই সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ওয়াশিংটনকে বেকায়দায় ফেলতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান।
ফলে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি প্রবাহিত কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তেজনার মধ্যে বৈশ্বিক চাপের মুখে গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com