শ্মশানজুড়ে মোমবাতির আলোর মায়াবী আভা, প্রিয়জনদের স্মরণে প্রার্থনা, উলুধ্বনি আর কাঁসর-ঘণ্টার মধুর ধ্বনি-এমন ধর্মীয় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে গোপালগঞ্জে পালিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শ্মশান দীপাবলি বা ভূত চতুর্দশী উৎসব। শনিবার সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় পৌর মহাশ্মশানসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার শ্মশানে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে শ্মশানগুলোতে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শুধু শ্মশানেই নয়, হিন্দু স¤প্রদায়ের মানুষ বাড়িতেও প্রদীপ ও আলো জ্বালিয়ে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করেন।
শ্রীশ্রী শ্যামাপূজার দীপাবলির আগের দিন পালন করা হয় মহাশ্মশান দীপাবলি, যা ভূত চতুর্দশী হিসেবেও পরিচিত। হিন্দু শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি বছর কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মৃত ব্যক্তিদের আত্মা প্রেতলোক থেকে মর্ত্যলোকে নেমে আসে। গোপালগঞ্জে শনিবার সন্ধ্যার আগেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মহাশ্মশানে আসেন। পরে মহাশ্মশান কালীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহাশ্মশান দীপাবলি উৎসব।
এরপর মৃত ব্যক্তিদের স্মৃতিস্তম্ভে প্রদীপ ও মোমবাতি প্রজ্বালনে আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো শ্মশান। প্রদীপ ও মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে অশুভ শক্তি দূর হওয়ার পাশাপাশি মৃত আত্মীয়-স্বজনের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করেন তাঁরা। উৎসবকে ঘিরে নানা আচার-অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে শ্মশান প্রাঙ্গণ। শুধু হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণই নয়, দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ।
গোপালগঞ্জ পৌর মহাশ্মশান কালীমন্দিরের পুরোহিত চণ্ডী দাস বলেন, শ্রীশ্রী শ্যামাপূজার দীপাবলির আগের দিন শ্মশান দীপাবলি পালন করা হয়। এটিকে ভূত চতুর্দশী হিসেবেও ডাকা হয়। এ দিনে মৃত ব্যক্তিদের আত্মা প্রেতলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসে। তাই সবাই তাঁদের সমাধি আলোকিত করে রাখেন। এ দিনে মহাশ্মশান কালীমন্দিরে পূজা-অর্চনা হয়ে থাকে। ভূত চতুর্দশী তিথিতে ধর্মীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ এবং তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
গোপালগঞ্জ পৌর মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি ও আয়োজক দিলীপ কুমার সাহা দিপু বলেন, নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ দিনটি পালন করা হয়। এ দিনে মহাশ্মশান কালীমন্দিরে পূজা-অর্চনা ও ভক্তিমূলক গানের আয়োজন থাকে। মৃত ব্যক্তিদের স্বজনরা প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালিয়ে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। ফলে মোমবাতি ও প্রদীপের আলোয় অন্ধকার দূর হয়ে ছড়িয়ে পড়ে আলো, শান্তি ও স¤প্রীতির বার্তা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com