ডেস্ক রিপোর্ট : নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেখানের সব রোগীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, সন্ধানী মেডিকেয়ার হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালে আগুনের কারণ ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং গ্লাস ভাঙাসহ অন্যান্য কারণে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন হাসপাতালের কয়েকজনসহ অন্যরা। আহত ও অসুস্থদেরও খুমেক হাসপাতালসহ অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১২ জুন ) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় হাসপাতালের বেজমেন্টের জেনারেটর অথবা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন সর্বত্র ছড়াতে না পারলেও এর ধোঁয়া ১৬ তলা বিশিষ্ট হাসপাতালের ১৩ তলা পর্যন্ত চলে যায়। হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে এতে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ও নৌবাহিনীর দুটি ইউনিট গিয়ে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ সরদার এটি রাতেই নিশ্চিত করেন। উদ্ধারকাজে অংশ নেন বিজিবি, পুলিশসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও। কিন্তু রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে রাত ২টা বেজে যায়।
খুলনা সিটি মেডিক্যালের এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দেয় এবং তারাও দ্রুত সেখান থেকে নেমে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপনার কারণে আগুন চারদিকে ছড়াতে পারেনি। এদিকে, খুলনা সিটি মেডিক্যালের এই অগ্নিকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন নাগরিকদের পক্ষ থেকে নানা মন্তব্য করতে দেখা যায়। বিশেষ করে এটি খুলনার সবচেয়ে ব্যয়বহুল হাসপাতাল হওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি নেতিবাচক মন্তব্য করেন। বিশেষ করে হাসপাতাল ভবনের কোনো গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকা, জরুরি অবতরণের ব্যবস্থা দুর্বলসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালের সামনে পার্ক করে রাখা মোটরসাইকেলগুলো সরাতেই অনেক সময় লেগে যায় এবং বেগ পোহাতে হয়। ফায়ার সার্ভিসের যে ক্রেনটি সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছিল, সেটিও সর্বোচ্চ ১২ তলা পর্যন্ত ওঠার সক্ষমতা রাখে। যেখানে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা নেই, সেই শহরে কিভাবে ১৬ তলা পর্যন্ত একটি ভবনের অনুমোদন দেওয়া হলো এবং তারা কিভাবে ফায়ারের লাইসেন্স পেল, সেটি নিয়েও জনগণকে নানা প্রশ্ন এবং মন্তব্য করতে দেখা যায়।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সকল নিয়ম-কানুন মেনেই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। রয়েছে জরুরি অবতরণ ও নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা, প্রায় সারা রাত ধরেই সেখানে ব্যাপক লোকের উপস্থিতি থাকার পাশাপাশি সকালেও সাধারণ মানুষ হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com