ডেস্ক রিপোর্ট : গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির অনেক শীর্ষ নেতা নিহত হন। তবে ভাগ্যক্রমে সেদিনের হামলায় প্রাণে বেঁচে যান দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ধাপের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল আলি খামেনির কম্পাউন্ড। এটি ছিল একইসঙ্গে তার আবাস ও কর্মস্থল।
তীব্র হামলার পরেও কীভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেন মোজতবা খামেনি, সেই শ্বাসরুদ্ধকর তথ্য উঠে এসেছে দ্য টেলিগ্রাফের হাতে আসা একটি ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিং থেকে।
সোমবার (১৬ মার্চ) প্রকাশিত গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শীর্ষ নেতাদের যেখানে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, একই হামলায় মোজতবা খামেনিকেও সেখানে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে ইসরাইলি ব্লু স্প্যারো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার কিছুক্ষণ আগে তিনি কিছু একটা করতে বাইরে গিয়েছিলেন।
দ্য টেলিগ্রাফের হাতে আসা অডিওতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান মাজাহের হোসেইনি বর্ণনা পাওয়া যায়। এ অডিওর শ্রোতা ছিলেন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতা ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডাররা।
হামলার সময় সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ডে ঠিক কি ঘটেছিল, সেটার বিস্তারিত বর্ণনা এই বক্তব্য থেকে জানা যায়। এতে বলা হয়, আয়াতুল্লাহ খামেনির মতো মোজতবা খামেনিও ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। দ্য টেলিগ্রাফের দাবি, তারা ওই ফাঁস হওয়া অডিও ফাইলটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করেছে।
অডিওতে মাজাহের হোসেইনি জানান, হামলা শুরুর ঠিক আগে ‘কিছু একটা করার জন্য’ কক্ষ থেকে বের হন মোজতবা খামেনি। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ইসরাইলের ‘ব্লু স্প্যারো’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তার বাড়িতে আঘাত হানে।
খামেনির কার্যালয়ের প্রটোকল প্রধান আরও জানান, মোজতবা খামেনি সরাসরি হামলার শিকার না হলেও পায়ে আঘাত পান। হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে মোজতবার স্ত্রী ও সন্তান নিহত হয়। তার শ্যালকের মাথা দেহ থেকে আলাদা হয়ে যায়।
খামেনির সামরিক ব্যুরোর প্রধান মোহাম্মদ সিরাজি এই হামলায় ‘ছিন্নভিন্ন হয়ে যান’। পরবর্তীতে তার মরদেহ শনাক্ত করার জন্য শুধু কয়েক কেজি মাংস অবশিষ্ট ছিল বলে জানান হোসেইনি।
নাম না প্রকাশের শর্তে ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, সামরিক কমান্ডারদের কাছে মোজতবা খামেনির বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। মোজতবা খামেনি আদৌ সুস্থ আছেন কি না, সে প্রশ্নের জবাব এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে ১৪ মার্চ এনবিসি নিউজকে দেয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (মোজতবা) আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি শুনছি যে তিনি বেঁচে নেই। আর যদি বেঁচে থাকেন, তবে নিজের দেশের স্বার্থে তার একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ করা উচিত। আর তা হলো আত্মসমর্পণ করা।’ তবে খামেনির মৃত্যুর খবরকে একটি ‘গুজব’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন তিনি।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। লন্ডন ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবি আলজাদিদকে তিনি বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘সুস্থ আছেন’ এবং ‘পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com