আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত শনিবার বিকেলে ১১ বছর বয়সী ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর রোববার ভোরে একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি তার অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে এবং ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামের এক সন্দেহভাজন যুবককে ধরে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তীতে গণপিটুনির শিকার ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
তবে পরিস্থিতি আরও উতপ্ত হয়ে ওঠে যখন হাজার হাজার মানুষ বারুইপুর-জয়নগর সড়ক অবরোধ করে এবং শিয়ালদহ-নামখানা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে গেলে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ‘মাগরিবের নামাজের পরে ওই নির্যাতিতা কিশোরী তার বন্ধুর জন্মদিনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু রাত আটটার পর থেকে তার আর কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা থানায় যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছিল না। পরে রোববার সকালে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে আমরাই ধরে ফেলি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দোষী নিজেই থানায় দোষ স্বীকার করেছিল ও তাকে সঙ্গে নিয়েই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করি। তবে শান্তনু মণ্ডল নামে এক স্থানীয় বিজেপি নেতা ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে নিয়ে পালিয়ে যায়।’
তিনি শান্তনু মণ্ডল বলে যার নাম উল্লেখ করছিলেন, তিনি হলেন বারুইপুর পশ্চিম তিন নম্বর অঞ্চলের বিজেপির জেনারেল সেক্রেটারি।
অন্য একজন স্থানীয় বাসিন্দা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, শান্তনু মণ্ডল প্রথমে স্থানীয়দের ওই পুকুরের কাছে যেতে বাধা দেন এবং আসামিকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অঞ্চল। রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন স্থানীয়রা।
যদিও বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডল সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, তিনি অভিযুক্ত কাউকেই পালাতে সাহায্য করেননি।
তিনি বলেন, ‘আমরাই ঘটনা শোনার পরে আইসির কাছে গিয়ে নালিশ নথিভুক্ত করি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে একজন ব্যক্তিকে আমরা শনাক্ত করি যাকে ওই বাচ্চাটিকে তুলে নিয়ে যেতে দেখা যায়। আমরাই তৎপরতার সঙ্গে তাকে ধরি এবং সে নিজের দোষ স্বীকার করে।’
এদিকে সোমবার প্রাথমিক ময়না তদন্তের রিপোর্ট এসেছে পুলিশের হতে, যেখানে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার উপর ভিত্তি করে পকসো আইনে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। যদিও প্রাথমিকভাবে রুজু হওয়া মামলায় ধর্ষণের উল্লেখ ছিল না।
ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল বা এসআইটি গঠন করেছে পুলিশ। তবে রোববার রাতের এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বারুইপুর থানা পুলিশ। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে এলাকায় পরিস্থিতি এখনও থমথমে। নতুন অশান্তি ঠেকাতে ইতোমধ্যেই ওই অঞ্চলে ১৪৪ ধারা জারি করে পাঁচজনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে পুলিশ।
এদিকে নির্যাতিতার পরিবারকে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ঘটনার পরই তিনি নির্যাতিতা কিশোরীর বাবার সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছেন।
শুভেন্দু বলেন, ‘আমি কালকেই ওই কিশোরীরর বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি এই জঘন্যতম ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চেয়েছেন। আমি তদন্তের মাঝপথে বিস্তারিত কিছু বলব না, তবে এটুকু নিশ্চিত করছি, পরিবার যেভাবে ন্যায় বিচার চেয়েছে এবং সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা চেয়েছে, তার প্রত্যেকটি তারা পাবেন।’
রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে পরিবারটির সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
অন্যদিকে এই ঘটনায় যখন উত্তাল অবস্থা বারুইপুরে, তখন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপ্যায় ঘটনাস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ করেন, মমতার বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করে ঘটনাস্থলে যেতে তাকে বাধা দেওয়া হয়েছে।
মমতার কালীঘাটের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েনের ছবি পোস্ট করেন সংসদ সদস্য ডেরেক ও ব্রায়েন।
তৃণমূলের আরেক সাংসদ দোলা সেন কালীঘাট থেকে বলেন, ‘সাবেক মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রাখার পরিস্থিতি তৈরি করেছে পুলিশ প্রশাসন। প্রায় জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এত দিনের অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদকে এভাবে আটকে রাখা হলো কেন সেই উত্তর আমরা পুলিশ প্রশাসনের থেকে জানতে চাই।’
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিজেপি সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, মমতাকে গৃহবন্দি করার অভিযোগ মিথ্যা। তবে অন্যান্য তৃণমূল নেতার মতো তাকেও যাতে ডিম ছুড়ে না মারা হয়, তার সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।
সূত্র: দ্য ওয়াল, বিবিসি বাংলা
সম্পাদক ও প্রকাশক: খান মাহাবুব হোসেন, নির্বাহী সম্পাদক: মিশারুল ইসলাম (মনির), বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ২৬/১, ফারাজীপাড়া লেন, খুলনা। প্রকাশক কর্তৃক ফ্রেন্ডস প্রিন্টার্স, ১০৭, স্যার ইকবাল রোড থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত। বার্তা ও বিজ্ঞাপন বিভাগ : ফোন : ০৪১-৭৩২৭০০, মোবা : ০১৭১১-৩৪৬৬৬২, ০১৭১১-০৬৫৭৫৬। 𝐄-𝐦𝐚𝐢𝐥 : 𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦, 𝐖𝐞𝐛 : 𝐰𝐰𝐰.daily𝐬𝐚𝐧𝐠𝐣𝐨𝐠𝐩𝐫𝐨𝐭𝐢𝐝𝐢𝐧.𝐜𝐨𝐦
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত : dailysangjogprotidin.com